Logo

সাজেকে টানা অষ্টম দিনের অবরোধ, বন্ধ যান চলাচল

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
রাঙ্গামাটি
২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১৬:২৯
সাজেকে টানা অষ্টম দিনের অবরোধ, বন্ধ যান চলাচল
ছবি: সংগৃহীত

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক সড়কে টানা অষ্টম দিনের মতো অবরোধ কর্মসূচি চলছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালেও সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে আগুন জ্বালান অবরোধকারীরা। এতে বন্ধ রয়েছে যান চলাচল। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছেন।

বিজ্ঞাপন

গত ২২ অক্টোবর থেকে তৃতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের জন্য এ অবরোধের ডাক দেয় সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন।

এর আগে গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) বেলা ৩টা থেকে বিকেল পৌনে ৬টা পর্যন্ত সাজেক ইউনিয়নের উজো বাজারে প্রশাসনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আন্দোলনকারী সংগঠনগুলোর নেতাদের বৈঠক হয়। বৈঠকে পাঁচ দফা দাবির চারটি বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে বলে জানান খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ওয়াদুদ ভূঁইয়া। তবে সাজেক এলাকা থেকে জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-সন্তু লারমা) সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার প্রধান দাবি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়েও সমাধান আসেনি।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

সোমবার রাতে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির ফেসবুক পেজে সরাসরি সম্প্রচারে সংগঠনটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা বলেন, প্রধান দাবি বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকার নির্দিষ্ট আশ্বাস দিতে পারেনি। এ দাবি পূরণে সরকার প্রথমে এক মাস সময় চাইলেও আন্দোলনকারীরা তিন দিন সময় দিতে রাজি ছিলেন। পরে সরকার ৫ নভেম্বর পর্যন্ত সময় চাইলে তাঁরা আরও পাঁচ দিন অপেক্ষা করতে সম্মত হন। তবে দাবি বাস্তবায়নের বিষয়ে নিশ্চিত আশ্বাস না পাওয়ায় অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকার আবার আলোচনায় বসতে চাইলে তাঁরা প্রস্তুত রয়েছেন বলেও জানান তিনি।

আন্দোলনকারীদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, ২২ অক্টোবর অবরোধ চলাকালে হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত; উজো বাজারে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ এবং সেখান থেকে সেনা ও পুলিশ সদস্যদের প্রত্যাহার; হামলায় আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার ব্যয়ভার গ্রহণ; সাজেক থেকে জেএসএস-সন্তু লারমা গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া এবং চাঁদাবাজি ও জুলুম বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। এ ছাড়া আন্দোলনকারীদের গ্রেপ্তার, হয়রানি এবং বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তল্লাশি বন্ধের দাবিও রয়েছে।

গত ২২ অক্টোবর সাজেক পর্যটন সড়কে স্থানীয় দুটি সংগঠনের ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, অবরোধকারী ও দুই সংগঠনের মধ্যে উত্তেজনা, সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

বিজ্ঞাপন

সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক থেকে প্রত্যাহার, স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনের আগের আশ্বাস বাস্তবায়নের দাবিতে গত ১১ অক্টোবর থেকে আন্দোলন শুরু করে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত রাখা হয়। পরে দাবি পূরণ না হওয়ায় ২২ অক্টোবর থেকে আবারও অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু করে সংগঠন দুটি।

অবরোধের প্রথম দিনে সাজেক ভ্যালিতে ২ হাজার ৯৩৩ জন পর্যটক আটকা পড়েন। পরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশ পর্যটকদের গাড়িবহরকে নিরাপত্তা দিয়ে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেয়।

সেদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পর্যটক ও নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়িবহর সাজেকের উজো বাজার এলাকায় পৌঁছালে আন্দোলনকারী ও পিকেটাররা সড়কে ব্যারিকেড দেন এবং টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে পথরোধ করেন। দীর্ঘ সময় আলোচনা চললেও অবরোধকারীরা সড়ক ছেড়ে দিতে রাজি না হওয়ায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD