Logo

মিরপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষের পর স্বাভাবিক হচ্ছে যান চলাচল

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১৫:২৮
মিরপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষের পর স্বাভাবিক হচ্ছে যান চলাচল
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। সড়কে যানবাহনের চলাচলও বাড়তে শুরু করেছে। সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে নিরাপত্তার কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশনও পুনরায় চালু করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও পাল্টাপাল্টি অবস্থানের ঘটনা ঘটে। পরে বিক্ষোভকারীরা আশপাশের বিভিন্ন অলিগলিতে ছড়িয়ে পড়লে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে সকালে মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় সড়কে অবস্থান নেন পোশাকশ্রমিকরা। পুলিশ তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। এ সময় কয়েকজনকে আটক করা হয়।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

সংঘর্ষের জেরে মিরপুর-১১ থেকে মিরপুর-১০ ও পল্লবীগামী সড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এতে আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। তবে বেলা সাড়ে ১১টার পর থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হতে থাকে এবং ধীরে ধীরে সড়কে যানবাহন চলাচল বাড়তে শুরু করে। একপর্যায়ে যান চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়ে আসে।

এদিকে সংঘর্ষ চলাকালে নিরাপত্তা বিবেচনায় সকাল ১০টা ২২ মিনিট থেকে বন্ধ রাখা হয় মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশন। পরে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এলে স্টেশনটি আবার চালু করা হয়।

এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি( উপ-পুলিশ কমিশনার (পিওএম-দক্ষিণ) মোহাম্মদ তৌহিদুল আরিফ বলেন, পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনে দুষ্কৃতকারীরা অনুপ্রবেশ করেছে। শ্রমিক নেতারা আগের দিন আমাদের জানিয়েছেন যে শ্রমিকরা আন্দোলন থেকে সরে আসবেন। এরপরও যারা বিক্ষোভ চালিয়ে যাবেন, তারা মূলত শ্রমিক নন, বরং দুষ্কৃতকারী। যারা এখন আন্দোলনে নামবেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে মিরপুরের বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় একটি জলকামান ও দুটি সাঁজোয়া যান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) সদস্যদেরও সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি শান্ত হয়ে এলেও পুরো এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD