Logo

জমি লিখে নেওয়ার পর ফেলে গেলেন ৬ সন্তান, গাছতলায় পড়ে কাঁদছেন বৃদ্ধ বাবা

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
গোপালগঞ্জ
৩ নভেম্বর, ২০২৬, ২০:২৮
জমি লিখে নেওয়ার পর ফেলে গেলেন ৬ সন্তান, গাছতলায় পড়ে কাঁদছেন বৃদ্ধ বাবা
ছবি: সংগৃহীত

জীবনের শেষ প্রান্তে এসে চরম অসহায়ত্বের মুখে পড়েছেন গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার ৯৫ বছর বয়সী হাজী শামসুল হক মোল্লা। জীবদ্দশায় নিজের জমিজমা ছয় সন্তানের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার পর এখন তাঁদের কারও কাছেই আশ্রয় পাচ্ছেন না তিনি। বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার পর ঠাঁই হয়েছে বাড়ির পাশের একটি গাছের নিচে। সেখানেই কাটছে তাঁর মানবেতর দিন।

বিজ্ঞাপন

হাজী শামসুল হক মোল্লা উপজেলার উত্তর হিরন গ্রামের ওমেদ আলী মোল্লার ছেলে। তাঁর দুই ছেলে ও চার মেয়ে। বড় ছেলে আজিজুল মোল্লা পেশায় ফেরিওয়ালা এবং ছোট ছেলে রেয়াজুল মোল্লা বাসের হেলপার। চার মেয়ের মধ্যে মায়া, সাবিনা ও সালমা বেগম বিবাহিত। ছোট মেয়ে কাজুলী বেগম শারীরিক প্রতিবন্ধী।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক বছর আগে নিজের জমির একাংশ বিক্রি করে হজ পালন করেন শামসুল হক। এরপর অবশিষ্ট সম্পত্তি সন্তানদের মধ্যে ভাগ করে দেন। বর্তমানে তিনি বিপত্নীক। কিন্তু সম্পত্তি ভাগ করে দেওয়ার পর বৃদ্ধ বাবার ভরণ-পোষণ ও দেখভালের দায়িত্ব নিতে সন্তানদের মধ্যে অনীহা দেখা দিয়েছে। ছোট মেয়ে কাজুলী ছাড়া অন্য পাঁচ সন্তান নিজেদের সংসার নিয়ে ব্যস্ত।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, গত কয়েক দিন বড় মেয়ে মায়া বেগমের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন শামসুল হক। মঙ্গলবার সকালে মায়া তাঁকে দুই ভাইয়ের বাড়িতে নিয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে দুই ছেলে ও তাঁদের স্ত্রীরা মিলে বৃদ্ধ বাবাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। পরে তাঁকে বাড়ির পাশের একটি গাছের নিচে রেখে আসা হয়। এমন ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে।

বাবাকে নিজের কাছে রাখতে না পারার কারণ ব্যাখ্যা করে বড় মেয়ে মায়া বেগম বলেন, তাঁর স্বামী অসুস্থ। বাড়িতে শারীরিক প্রতিবন্ধী ছোট বোন কাজুলীও থাকেন। এসব কারণে বাবার দেখাশোনার দায়িত্ব নেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।

অন্যদিকে মেজ মেয়ে সাবিনা বেগমের দাবি, জমি বিক্রির টাকা থেকে বাবা চার বোনকে চার লাখ টাকা করে দিয়েছেন। আর দুই ছেলেকে নগদ অর্থের পাশাপাশি আট কাঠা করে জমি দিয়েছেন। এ অবস্থায় বোনেরা কেন বাবার দেখাশোনা করবেন, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে দুই ছেলে আজিজুল ও রেয়াজুলের বাড়িতে গিয়ে তাঁদের পাওয়া যায়নি। তাঁদের স্ত্রীরাও এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিবেশী এক গৃহিণী জানান, শামসুল হকের কাছ থেকে জমিজমা বুঝে নেওয়ার পরও সন্তানরা তাঁকে আশ্রয় দিচ্ছেন না। তাঁর মতে, সম্পত্তি সন্তানদের নামে লিখে না দিলে হয়তো বৃদ্ধকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো না। সন্তানদের এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নিজের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন শামসুল হক। তিনি বলেন, এখন কোথায় যাবেন, কী করবেন, কিছুই বুঝতে পারছেন না। সারাজীবন পরিশ্রম করে সন্তানদের বড় করেছেন। অথচ জীবনের শেষ সময়ে এসে তাঁদের কাছেই নিজেকে বোঝা মনে হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে বিষয়টি জানার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফ-উল-আরেফীন। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনাটি শুনে তিনি সরেজমিনে সেখানে যাচ্ছেন। সন্তানরা বৃদ্ধ বাবার ভরণ-পোষণের দায়িত্ব পালন না করলে ‘পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ’ আইন অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD