ঠাকুরগাঁও সুগার মিলে বয়লারে আগুন, নতুন আশায় আখচাষিরা

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ঠাকুরগাঁও সুগার মিল লিমিটেডে বয়লারে আগুন দেওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে চলতি মাড়াই মৌসুমের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম। শনিবার ৭ নভেম্বর) সকালে মিল প্রাঙ্গণে বয়লারে আগুন দেওয়া হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আখচাষি, শ্রমিক-কর্মচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বয়লারে আগুন দেওয়ার অনুষ্ঠানে মিলের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শ্রমিক, আখচাষি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর মিলের কার্যক্রম শুরু হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
মিল সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আখ মাড়াইয়ের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। মিলের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ মেরামত, আখ সংগ্রহ এবং পরিবহনের ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।
মিল চালুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। বিশেষ করে আখচাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে নতুন আশাবাদ। তাঁদের মতে, সুগার মিল সচল থাকলে উৎপাদিত আখের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। অন্যদিকে মিল বন্ধ থাকলে আখ বিক্রি নিয়ে অনিশ্চয়তা ও আর্থিক দুশ্চিন্তায় পড়তে হয়।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
একজন আখচাষি বলেন, সুগার মিল আমাদের জীবন। মিল চললে আমাদের সংসার চলে। এবার যেন মিলটি ভালোভাবে চলে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
মিল চালু হওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যেও ফিরে এসেছে কর্মচাঞ্চল্য। পাশাপাশি মিলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য আবারও গতিশীল হবে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।
বিজ্ঞাপন
ঠাকুরগাঁও সুগার মিল এ অঞ্চলের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিল্পপ্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি সচল থাকলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জেলার হাজার হাজার আখচাষি, শ্রমিক এবং ব্যবসায়ী উপকৃত হন। মিলের কার্যক্রমকে ঘিরে স্থানীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়ে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত আখ সরবরাহ এবং উৎপাদন কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখা সম্ভব হলে চলতি মৌসুমে মিলটি লাভজনক অবস্থানে পৌঁছাতে পারে। এতে ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষি ও শিল্প অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চারিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।








