কুষ্টিয়ায় তুলার আবাদ বাড়ছে, বাম্পার ফলনের আশায় কৃষকরা

কুষ্টিয়া অঞ্চলে উৎপাদিত তুলার উন্নত মান ও উৎকৃষ্ট আঁশের কারণে দেশের টেক্সটাইল মিলগুলোতে এ অঞ্চলের তুলার চাহিদা রয়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। বাজারে ভালো দাম এবং ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে কেন্দ্র করে জেলায় প্রতিবছরই বাড়ছে তুলার আবাদ। অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষকদের নিবিড় পরিচর্যায় চলতি মৌসুমে বাম্পার ফলনের প্রত্যাশা করছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।
বিজ্ঞাপন
বর্তমানে তুলা গাছের পরিচর্যা, সেচ, সার প্রয়োগ ও পোকামাকড় দমনে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। গাছে নতুন ফুল ও তুলার বোল আসতে শুরু করায় মাঠজুড়ে তৈরি হয়েছে সম্ভাবনাময় পরিবেশ। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী দৌলতপুর উপজেলায় তুলার বিস্তীর্ণ ক্ষেত এখন সবুজ গাছ ও শুভ্র তুলার সমারোহে কৃষকদের আশাবাদ বাড়িয়ে তুলছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও তুলা উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে কুষ্টিয়া জেলায় প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতে বিভিন্ন উন্নত জাতের তুলা চাষ হয়েছে। এর অধিকাংশ আবাদই হয়েছে দৌলতপুর উপজেলায়।
স্থানীয় তুলাচাষিরা জানান, ধানসহ অন্যান্য প্রচলিত ফসলের তুলনায় তুলা চাষে ঝুঁকি তুলনামূলক কম এবং যথাযথ পরিচর্যা করা গেলে লাভের সম্ভাবনা বেশি। পাশাপাশি তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নিয়মিত পরামর্শ ও সহায়তা পাওয়ায় আধুনিক পদ্ধতিতে তুলা উৎপাদন করা এখন আগের চেয়ে সহজ হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
দেশের বস্ত্রশিল্পের কাঁচামালের চাহিদা পূরণে বিদেশি তুলার ওপর নির্ভরতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বস্ত্র উৎপাদনকারী দেশ হলেও তুলার চাহিদার সিংহভাগ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হয়। ফলে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়। এ পরিস্থিতিতে দেশীয় তুলা উৎপাদন বৃদ্ধি আমদানিনির্ভরতা কমাতে এবং অর্থনৈতিক সাশ্রয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
চাষিদের তুলা উৎপাদনে উৎসাহিত করতে চলতি মৌসুমে কুষ্টিয়ার ২ হাজার ২০০ জন কৃষককে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় নেওয়া হয়েছে। তাঁদের বিনামূল্যে উন্নত জাতের বীজ, সার ও বিভিন্ন কৃষি উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি তুলা উন্নয়ন বোর্ড ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের কারিগরি সহায়তা এবং নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছেন।
বিজ্ঞাপন
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, তুলা চাষে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, উন্নত সেচব্যবস্থা, সময়মতো পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ এবং উচ্চফলনশীল জাতের বীজ ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপের ফলে তুলা চাষ আগের তুলনায় আরও লাভজনক হয়ে উঠছে।
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, কুষ্টিয়ার উর্বর মাটি ও অনুকূল জলবায়ু তুলা উৎপাদনের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। এ অঞ্চলের তুলার মান ভালো হওয়ায় ব্যবসায়ীরাও মাঠপর্যায় থেকে তুলা সংগ্রহে আগ্রহী থাকেন। কৃষকদের উৎপাদন প্রক্রিয়ায় যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো তদারকি ও পরামর্শ অব্যাহত রেখেছে।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বাজারে তুলার দাম স্থিতিশীল থাকলে চলতি মৌসুমে কুষ্টিয়ায় বাম্পার ফলন হতে পারে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা। এতে কৃষকদের আয় বৃদ্ধি, গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন এবং দেশের বস্ত্রশিল্পে দেশীয় তুলার সরবরাহ বাড়ানোর নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।








