পঞ্চগড়ের মাঠজুড়ে সোনালি স্বপ্ন, আমনে বাম্পার ফলনের আশা

পঞ্চগড়ের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি এখন সবুজ ধানের সমারোহে ভরপুর। মাঠজুড়ে দুলছে আমনের শীষ। প্রতিকূল আবহাওয়া, রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ মোকাবিলা করেও এবার ধানের ভালো ফলন পাওয়ার আশায় বুক বেঁধেছেন জেলার কৃষকরা। সোনালি ফসল ঘরে তোলার অপেক্ষায় এখন তাদের চোখেমুখে আনন্দের প্রত্যাশা।
বিজ্ঞাপন
জেলার বিভিন্ন এলাকায় আগাম জাতের আমন ধান কাটা ও মাড়াই শুরু হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এর পরিমাণ তুলনামূলক কম। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, স্বর্ণা, ব্রি-৭৫, ব্রি-৮৭সহ কয়েকটি জাতের ধান ইতোমধ্যে কাটতে শুরু করেছেন কৃষকরা। চলতি নভেম্বর মাসের প্রথমার্ধের মধ্যেই অধিকাংশ এলাকায় পুরোদমে ধান কাটা ও মাড়াই শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে পঞ্চগড়ে আমন ধানের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। এবার ১ লাখ ৪৪ হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার হেক্টর জমিতে। গত মৌসুমে আবাদ হয়েছিল ১ লাখ ৪৪ হাজার হেক্টর জমিতে।
কৃষি কর্মকর্তাদের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি হেক্টর জমিতে গড়ে ৬ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। সেখান থেকে চাল পাওয়া যেতে পারে প্রায় ৩ দশমিক ৬ মেট্রিক টন। ফলে এবার আমন উৎপাদন ঘিরে কৃষি বিভাগ ও কৃষকদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, যতদূর চোখ যায় বিস্তীর্ণ জমিতে সবুজ ধানের ক্ষেত। চারদিকে যেন সবুজের চাদর বিছানো। প্রতিদিন ভোরে অনেক কৃষক নিজের জমির অবস্থা দেখতে মাঠে ছুটে যাচ্ছেন। তাদের প্রত্যাশা, পরিশ্রম ও সঞ্চিত অর্থের বিনিয়োগ এবার সোনালি ফসল হয়ে ঘরে ফিরবে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
আটোয়ারী উপজেলার ধামোর ইউনিয়নের গাছবাড়ী এলাকার কৃষক শরিফুল ইসলাম জানান, তার জমিতে ধানের অবস্থা বেশ ভালো। অগ্রহায়ণ মাসে তিনি ধান কাটার পরিকল্পনা করেছেন।
বিজ্ঞাপন
দেবীগঞ্জ উপজেলার শালডাঙ্গা ইউনিয়নের ঝান্ঠাপাড়া এলাকার কৃষক লিপন বলেন, “আমরা বাম্পার ফলনের আশা নিয়ে আছি। আশা করা যায় ফলন বাম্পারই হবে।” তবে কারেন্ট পোকা তাদের ফসলের বেশ ক্ষতি করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
একই ইউনিয়নের তেলীপাড়া এলাকার কৃষক আশরাফুল ইসলাম জানান, এবার ধানের ফলন ভালো হয়েছে। অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই তার জমিতে ধান কাটা শুরু হবে।
বোদা উপজেলার মাড়েয়া ইউনিয়নের ইসলামপুর এলাকার কৃষক বদিউজ্জামান জানান, এবার ধানে শীষ মরে যাওয়ার প্রবণতা ও কারেন্ট পোকার আক্রমণ দেখা গেছে। এসব সমস্যার মধ্যেও জমিতে ভালো আবাদ হয়েছে। আগামী ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যে তিনি ধান কাটার কাজ শুরু করবেন বলে জানান।
বিজ্ঞাপন
পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়নের খোপড়াবান্দি এলাকার কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, তার জমিতে ধানের আবাদ বেশ ভালো হয়েছে। একই উপজেলার প্রধানপাড়া এলাকার কৃষক নবির উদ্দীনও তার জমিতে ভালো ফলনের আশা করছেন।
ধান ঘরে তোলার অপেক্ষায় এখন কৃষক পরিবারগুলো। নবান্নের উৎসব, নতুন ধানের চাল, পিঠাপুলি আর নানা ঐতিহ্যবাহী খাবারের আনন্দ ঘিরে গ্রামবাংলায় তৈরি হচ্ছে উৎসবের আবহ। দীর্ঘদিনের বাঙালি ঐতিহ্যের এই নবান্ন উৎসবের অপেক্ষায় রয়েছেন কৃষকসহ পরিবারের সদস্যরা।
তবে ভালো ফলনের পাশাপাশি ধানের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা। উৎপাদন খরচ বিবেচনায় নিয়ে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন তারা।
বিজ্ঞাপন
জেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আব্দুল মতিন জানান, ইতোমধ্যে ব্রি-৭৫, ব্রি-৮৭সহ কয়েকটি আগাম জাতের আমন ধান কাটা ও মাড়াই শুরু হয়েছে। তবে এ পর্যন্ত মোট আবাদি জমির প্রায় ১০ শতাংশের ধান কাটা হয়েছে। চলতি মাসেই জেলার বিভিন্ন এলাকায় পুরোদমে আমন ধান কাটা ও মাড়াই শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।








