Logo

হিমাগারে আলু রেখেও চরম লোকসানের মুখে ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষকরা

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
ঠাকুরগাঁও
১০ অক্টোবর, ২০২৬, ০৯:২৬
হিমাগারে আলু রেখেও চরম লোকসানের মুখে ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষকরা
ছবি: সংগৃহীত

ভালো দামে বিক্রির আশায় হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করেছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। কিন্তু বাজারে চাহিদা কম থাকায় সেই আশা এখন হতাশায় পরিণত হয়েছে। হিমাগার ভাড়া, পরিবহনসহ অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রতি কেজি আলুর পেছনে ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১৯ থেকে ২০ টাকা। অথচ বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ১৪ টাকা কেজি দরে। ফলে প্রতি কেজিতে ৫ থেকে ৬ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে তাঁদের।

বিজ্ঞাপন

কৃষক ও ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, মৌসুমের শুরুতে মাঠপর্যায়ে ১০ থেকে ১২ টাকা কেজি দরে আলু কেনাবেচা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বাজারে দাম বাড়বে—এমন প্রত্যাশা থেকেই অনেকে হিমাগারে আলু মজুত করেন। কিন্তু বর্তমানে বাজারে চাহিদা কম থাকায় কাঙ্ক্ষিত দামে আলু বিক্রি করা যাচ্ছে না। এতে সংরক্ষিত আলু নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে সংশ্লিষ্টদের।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বেগুনবাড়ী এলাকার কৃষক আরমান হোসেন জানান, মাঠে আলুর দাম কম থাকায় তিনি পরবর্তী সময়ে বেশি দামে বিক্রির আশায় হিমাগারে আলু রেখেছিলেন। কিন্তু সংরক্ষণ ও অন্যান্য খরচ যোগ হওয়ার পর প্রতি কেজিতে ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১৯ থেকে ২০ টাকা। সেই আলু এখন ১৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

রানীশংকৈল উপজেলার কৃষক ও ব্যবসায়ী মো. ওহাব বলেন, গত দুই থেকে তিন মৌসুম ধরে আলু চাষ এবং হিমাগারে সংরক্ষণ করে লোকসান হচ্ছে। চলতি মৌসুমেও একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। এতে তাঁর বিনিয়োগ করা পুঁজি হারিয়ে গেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে অনেক কৃষক আলু চাষ থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে আলুর দাম স্থিতিশীল রাখতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।

বিজ্ঞাপন

সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের ব্যবসায়ী শামসুজ্জোহা বলেন, এ সময়ে হিমাগার থেকে বিপুল পরিমাণ আলু বাজারে আসার কথা থাকলেও চাহিদা কম থাকায় তা হচ্ছে না। তাঁর দাবি, এখনো প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আলু হিমাগারে সংরক্ষিত রয়েছে। দ্রুত এসব আলু বাজারজাত করা সম্ভব না হলে লোকসানের পরিমাণ আরও বাড়বে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ঠাকুরগাঁওয়ে ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে প্রায় ৩৭ হাজার হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে আগাম জাতের আলু চাষ করা হয়েছে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে।

জেলায় আলু সংরক্ষণের জন্য রয়েছে ১৯টি হিমাগার। এসব হিমাগারে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার মেট্রিক টন আলু মজুত রয়েছে। বাজারে চাহিদা কম থাকায় হিমাগার থেকে আলু বের করার গতি কমে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি হিমাগার মালিকদের ওপরও।

বিজ্ঞাপন

শাহী হিমাগারের ব্যবস্থাপক মো. আল আমিন বলেন, আলুর দাম কমে যাওয়ায় হিমাগার মালিকেরাও উদ্বিগ্ন। হিমাগার থেকে আলু বের না হলে কৃষক, ব্যবসায়ী ও হিমাগার মালিক—সব পক্ষই ক্ষতির মুখে পড়বেন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

আলুর বাজারে মন্দার কারণে বিপাকে পড়েছেন হিমাগারের শ্রমিকেরাও। তাঁদের ভাষ্য, আলু ওঠানো ও নামানোর কাজ কমে যাওয়ায় দৈনিক আয় কমেছে। ফলে বাজারে আলুর দরপতনের প্রভাব শুধু কৃষি খাতেই সীমাবদ্ধ নেই, সংশ্লিষ্ট শ্রমজীবীদের জীবনেও পড়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. আলমগীর কবির বলেন, কৃষকেরা লাভের আশায় আলু হিমাগারে সংরক্ষণ করেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে আগের তুলনায় দাম অনেক কমে যাওয়ায় তাঁরা লোকসানের মুখে পড়েছেন।

বিজ্ঞাপন

এই পরিস্থিতিতে ক্ষতি কমাতে দ্রুত আলু বাজারজাতকরণ এবং রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। তাঁদের মতে, রপ্তানির নতুন বাজার তৈরি করা গেলে হিমাগারে পড়ে থাকা আলু বিক্রির সুযোগ বাড়বে। পাশাপাশি বাজারে চাহিদা বৃদ্ধি পেলে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতি কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব হবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD