ইবিতে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাব বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ

সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে মৌখিক বা ভাইভা পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাব প্রত্যাহারের দাবিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) বিক্ষোভ মিছিল করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত সোয়া ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া মোড় থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শিক্ষার্থীরা প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেন। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভে শিক্ষার্থীরা ‘আমার সোনার বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’, ‘অ্যাকশন টু অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘কোটা গেছে যেই পথে, ভাইভা যাবে সেই পথে’, ‘মেধা না কোটা? মেধা, মেধা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরির নিয়োগে লিখিত পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে ভাইভার নম্বর বাড়ানো হলে মেধাভিত্তিক নিয়োগব্যবস্থা প্রশ্নের মুখে পড়বে। কারণ ভাইভা অনেকটাই ব্যক্তিনির্ভর হওয়ায় বোর্ডের সদস্যদের মূল্যায়নের ওপর প্রার্থীর ফলাফল উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভর করে। এতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা না গেলে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ বাড়তে পারে।
বিজ্ঞাপন
তাদের দাবি, লিখিত পরীক্ষায় ভালো করা কোনো প্রার্থী ভাইভায় কম নম্বর পেয়ে পিছিয়ে পড়লে তার মেধার যথাযথ মূল্যায়ন হবে না। বিপরীতে লিখিত পরীক্ষায় তুলনামূলক কম নম্বর পাওয়া কাউকে ভাইভায় বেশি নম্বর দিয়ে এগিয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে সরকারি চাকরিতে যোগ্যতার পরিবর্তে ব্যক্তি বা রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করার আশঙ্কা রয়েছে।
শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কাজ করেন। এ পর্যায়ের নিয়োগে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাব ঢুকে পড়লে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দুর্নীতির সুযোগও বাড়বে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
শাখা ছাত্র ইউনিয়নের কর্মী মো. সবুজ বলেন, শিক্ষার্থীদের সক্ষমতা ও অধিকার নিয়ে কোনো ধরনের তালবাহানা মেনে নেওয়া হবে না। গণঅভ্যুত্থানের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত পরিবর্তনের পর এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তার পরিণতি ভালো হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইবি ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি ইসমাইল হোসেন রাহাত বলেন, তারা সরকারের বিরোধিতা করছেন না; শিক্ষার্থীবিরোধী সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছেন। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ ও অধিকার বিবেচনায় নিয়ে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাব প্রত্যাহার করা হবে বলে তারা আশা করেন।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভ্যান চালানোর মতো পরিস্থিতি দেখা গেছে। ভাইভা নিয়ে দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগগুলোর বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেটিও জানতে চান তারা।
বিজ্ঞাপন
শাখা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মুবাশশির আমিন বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলনে বহু মানুষের রক্তের বিনিময়ে পরিবর্তন এসেছে। সেই রক্তের সঙ্গে বৈষম্যমূলক কোনো সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া হবে না। তিনি অবিলম্বে প্রস্তাবটি প্রত্যাহারের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জাহিদুর রহমানকে প্রত্যাহারের দাবি জানান।
শাখা ছাত্রশক্তির সদস্য সচিব ইফতেহার উদ্দিন অভিযোগ করেন, স্বজনপ্রীতির সুযোগ তৈরি করতেই ভাইভার নম্বর বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এমন সিদ্ধান্ত তারা কোনোভাবেই মেনে নেবেন না বলে জানান তিনি।
ইবি ছাত্রশিবিরের ছাত্র অধিকার সম্পাদক নাহিদ হাসান অভিযোগ করেন, দলীয় ক্যাডারদের চাকরির সুযোগ করে দিতেই ভাইভার নম্বর বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, প্রস্তাবটি প্রত্যাহার না হলে ক্যাম্পাসে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।








