পদ বাণিজ্যের প্রমাণ দিতে শিবিরকে চ্যালেঞ্জ দিলেন জিএস আম্মার

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পদ টাকার বিনিময়ে দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগের প্রমাণ প্রকাশ্যে উপস্থাপনের জন্য ছাত্রশিবিরকে ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘চ্যালেঞ্জ-০১’ শিরোনামে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই চ্যালেঞ্জ জানান। সেখানে অন্তত একটি পদ বাণিজ্যের প্রমাণ প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
পোস্টে সালাহউদ্দিন আম্মার লেখেন, “আমি টাকার বিনিময়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পদ দিয়েছি প্রমাণ দেন। যেহেতু মিথ্যা অপপ্রচার করেন আপনারা, আপনাদের প্যাডে মানুষকে নিয়ে এটা মুনাফেকির চরম পর্যায়। সাহস থাকলে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন। ১টা পদ বাণিজ্যের প্রমাণ দেখান। ২৪ ঘণ্টা সময়...”
তিনি আরও লেখেন, নিজেদের গোয়েন্দা বাহিনী ও সরকারি গোয়েন্দা সংস্থাসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে তথ্য সংগ্রহ করে অভিযোগের প্রমাণ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। একই পোস্টে সামনে আরও চ্যালেঞ্জ দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
সালাহউদ্দিন আম্মারের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অতীত নিয়েও সম্প্রতি আলোচনা হয়েছে। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাথী ছিলেন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে নৈতিক পদস্খলন, নারীদের সঙ্গে অবাধ বিচরণ, অর্থের বিনিময়ে পদবাণিজ্য, মৌলিক ইবাদত পালনে উদাসীনতা এবং অবৈধ অর্থনৈতিক লেনদেনসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের কথা জানায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির। এ বিষয়ে সংগঠনটির তিনটি সাংগঠনিক চিঠির তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও নথির পৃথক যাচাই প্রয়োজন। সালাহউদ্দিন আম্মার এখন তার বিরুদ্ধে বা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পদ বাণিজ্য নিয়ে ওঠা অভিযোগের প্রমাণ প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন।
২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর রাকসু নির্বাচনে ‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য প্যানেল’ থেকে জিএস নির্বাচিত হন সালাহউদ্দিন আম্মার। নির্বাচনে তিনি ১১ হাজার ৫৩৭ ভোট পান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রশিবির-সমর্থিত ফাহিম রেজা পেয়েছিলেন ৫ হাজার ৭২৯ ভোট।
বিজ্ঞাপন
পদ বাণিজ্য নিয়ে নতুন এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্য দিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতিতে আবারও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আম্মারের দেওয়া ২৪ ঘণ্টার চ্যালেঞ্জের জবাবে ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে কোনো প্রমাণ বা বক্তব্য দেওয়া হয়েছে কি না, তা পরবর্তী সময়ে স্পষ্ট হবে।








