ঘুষের প্রস্তাব ফিরিয়ে ইনসুলিন সিরিঞ্জ জব্দ করল আনসার

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্তব্যরত এক নারী আনসার সদস্যের সততা ও পেশাদারত্বে ভেস্তে গেছে অনুমোদনহীন ইনসুলিন সিরিঞ্জ পাচারের চেষ্টা। সন্দেহের ভিত্তিতে তল্লাশি চালিয়ে চীনের উদ্দেশে যাত্রা করতে আসা এক বিদেশি নারীর কাছ থেকে ১০০টি ইনসুলিন সিরিঞ্জ জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার করা এসব সিরিঞ্জের আনুমানিক বাজারমূল্য ২ লাখ ২০ হাজার টাকা। তল্লাশি এড়াতে ওই নারী যাত্রী ৫০০ টাকার কয়েকটি নোট দিয়ে ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা করলেও তা প্রত্যাখ্যান করেন আনসার সদস্য তাছলিমা আক্তার।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে বিমানবন্দরের ৪ নম্বর হেভি লাগেজ গেটে দেহ তল্লাশির সময় এ ঘটনা ঘটে। আটক ওই যাত্রীর নাম জিয়াং ঝাওজুন (XIANG ZHAOJUN) বলে জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা নারী আনসার সদস্য তাছলিমা আক্তার ওই যাত্রীর ঢিলেঢালা পোশাক দেখে সন্দেহ করেন। এরপর তাঁকে তল্লাশির উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ সময় তল্লাশি এড়াতে ওই নারী যাত্রী বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তিনি আনসার সদস্যকে ৫০০ টাকার কয়েকটি নোট ঘুষ হিসেবে দেওয়ার প্রলোভন দেখান।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
তবে ঘুষের প্রস্তাবে সাড়া না দিয়ে দায়িত্ব পালনে অবিচল থাকেন তাছলিমা আক্তার। তিনি যথাযথভাবে দেহ তল্লাশি চালিয়ে ওই নারীর শরীরে অভিনব কায়দায় লুকিয়ে রাখা ১০০টি ইনসুলিন সিরিঞ্জ উদ্ধার করেন।
উদ্ধার করা সিরিঞ্জগুলোর মোট ওজন প্রায় ৫০০ গ্রাম। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চালানটির আনুমানিক বাজারমূল্য ২ লাখ ২০ হাজার টাকা। প্রতিটি সিরিঞ্জের দাম প্রায় ২ হাজার ২০০ টাকা বলে জানানো হয়েছে।
ঘটনার পর বিষয়টি শিফটের দায়িত্বে থাকা থানা প্রশিক্ষক ওমর ফারুককে অবহিত করা হয়। তিনি পরে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ও এভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক) কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান। এভসেক কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী, আটক বিদেশি যাত্রী ও জব্দ করা মালামাল পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণের জন্য কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বিজ্ঞাপন
কাস্টমসের কাছে হস্তান্তরের সময় থানা প্রশিক্ষক ওমর ফারুক, আলফা পিসি মো. নিজাম উদ্দিন এবং পিসি দুলন মিয়া উপস্থিত ছিলেন।
বিমানবন্দরের মতো দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বারে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আনসার সদস্যের এমন সততা ও পেশাদারত্বের প্রশংসা করেছে এভসেক ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। দায়িত্ব পালনের সময় ঘুষের প্রলোভন প্রত্যাখ্যান করে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করায় তাছলিমা আক্তারের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।








