Logo

জামিন পেলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ মার্চ, ২০২৬, ১৭:৫৫
জামিন পেলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক
সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক | ফাইল ছবি

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর ফলে তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর মধ্যে সর্বশেষ মামলাতেও জামিন মেলায় আপাতত তার কারামুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (১১ মার্চ) বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালত আগে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে এই সিদ্ধান্ত দেন।

আদালতে খায়রুল হকের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, মোতাহার হোসেন সাজু এবং ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান। আদেশের পর তার আইনজীবীরা জানান, এই মামলায় জামিন পাওয়ার ফলে বর্তমানে তার মুক্তির পথে আর কোনো আইনি প্রতিবন্ধকতা নেই।

বিজ্ঞাপন

এর আগে গত ৮ মার্চ পৃথক চারটি মামলায়ও হাইকোর্ট থেকে জামিন পান সাবেক এই প্রধান বিচারপতি। ওই মামলাগুলোর মধ্যে ছিল জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ এবং রায় জালিয়াতির অভিযোগসংক্রান্ত মামলা।

জানা গেছে, খায়রুল হকের বিরুদ্ধে দায়ের করা পাঁচটি মামলায় জামিন প্রশ্নে গত বছরের ২৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করেন। সেই রুলে আদালত জানতে চান, কেন তাকে এসব মামলায় জামিন দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষকে ১০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে পাঁচ মামলার মধ্যে চারটিতে গত ৮ মার্চ বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত আরেকটি হাইকোর্ট বেঞ্চ তাকে জামিন দেন। অবশিষ্ট ছিল দুদকের করা একটি মামলা। বুধবার সেই মামলাতেও জামিন মঞ্জুর করলেন হাইকোর্টের অন্য একটি বেঞ্চ।

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, এ বি এম খায়রুল হক ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত এ পদে দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ ২০১১ সালের ১০ মে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেয়। ওই রায়ের মাধ্যমে দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়, যা পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রায় এক বছর পর, ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডিতে নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

বিজ্ঞাপন

এরপর বেআইনি রায় দেওয়া এবং রায় জালিয়াতির অভিযোগে গত বছরের ২৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জে দায়ের করা আরেকটি মামলায়ও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে ২০২৫ সালের ২৭ আগস্ট শাহবাগ থানায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। একই অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় নুরুল ইসলাম মোল্লা নামের এক ব্যক্তি আরও একটি মামলা করেন।

এ ছাড়া বিধি বহির্ভূতভাবে প্লট গ্রহণের অভিযোগ এনে গত বছরের আগস্ট মাসে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনও একটি মামলা দায়ের করে। এই মামলাতেই সর্বশেষ হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD