Logo

মিটফোর্ডে হত্যা : আদালত বদলির আবেদনে পিছিয়ে গেল সাক্ষ্যগ্রহণ

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৭ জুলাই, ২০২৬, ২১:৫৬
মিটফোর্ডে হত্যা : আদালত বদলির আবেদনে পিছিয়ে গেল সাক্ষ্যগ্রহণ
ছবি: সংগৃহীত

পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগ হত্যা মামলায় আদালত পরিবর্তনের আবেদন করেছে আসামিপক্ষ। এ কারণে ২১ আসামির বিরুদ্ধে নির্ধারিত সাক্ষ্যগ্রহণ স্থগিত রেখে আগামী ৩ আগস্ট নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত। সোমবার (২৭ জুলাই) ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. আলমগীর এ আদেশ দেন।

বিজ্ঞাপন

আদালত সূত্রে জানা গেছে, এদিন মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। বাদীপক্ষ সাক্ষীদের আদালতে হাজির করলেও আসামিপক্ষ বর্তমান আদালতের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করে মামলাটি অন্য আদালতে স্থানান্তরের আবেদন করে। শুনানি শেষে আদালত সাক্ষ্যগ্রহণ মুলতবি করে ৩ আগস্ট পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক জানান, আসামিপক্ষ মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলির আবেদন করেছে। এ বিষয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত জানিয়েছেন, মামলার নথিপত্র পর্যালোচনার পর বদলির আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে। ফলে সোমবার সাক্ষ্যগ্রহণ আর এগোয়নি।

বিজ্ঞাপন

এর আগে গত ১৯ জুলাইও মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন নির্ধারিত ছিল। সেদিন কারাগারে থাকা আসামিদের আদালতে হাজির করা হলেও সাক্ষীরা উপস্থিত না থাকায় সাক্ষ্যগ্রহণ সম্ভব হয়নি। পরে আদালত ২৭ জুলাই নতুন দিন ধার্য করেন।

গত ১২ জুলাই একই আদালত ২১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

মামলার ২১ আসামির মধ্যে প্রথম ১০ জন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। সজীব ব্যাপারী, রুমান ব্যাপারী, আবির হোসেন ও পারভেজ উচ্চ আদালত থেকে জামিনে আছেন। বাকি সাত আসামি এখনও পলাতক।

বিজ্ঞাপন

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত বছরের ৯ জুলাই সন্ধ্যায় মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর গেটসংলগ্ন রজনী ঘোষ লেনে একদল হামলাকারী ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগের ওপর হামলা চালায়। পাথর দিয়ে আঘাত ও ধারালো অস্ত্রের কোপে তাকে হত্যা করা হয়।

ঘটনার পরদিন নিহতের বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম কোতোয়ালি থানায় ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়।

প্রাথমিক তদন্ত শেষে গত বছরের ৮ ডিসেম্বর তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতোয়ালি থানার (বর্তমানে শাহবাগ) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান ২১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। একই সঙ্গে অভিযোগের প্রমাণ না পাওয়ায় ১০ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তবে তদন্তে অসঙ্গতি পাওয়ায় আদালত পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেন। পরে চলতি বছরের ১০ মে কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক শাহ মো. ফয়সাল আহমেদ পুনঃতদন্ত শেষে একই ২১ জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেন।

নিহত লাল চাঁদ ওরফে সোহাগ কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পূর্ব নামাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা ইউসুফ আলী হাওলাদারের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পুরান ঢাকার মিটফোর্ড এলাকার রজনী ঘোষ লেনে ভাঙারি ব্যবসা পরিচালনা করতেন।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD