চাঁদাবাজির মামলায় কারাগারে বিএনপি নেতা আলমগীর

ভোলার চরফ্যাশনে চাঁদাবাজি, মারধর এবং একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বিএনপির এক নেতাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে জেলা ও দায়রা জজ আদালত এ আদেশ দেন।
বিজ্ঞাপন
আদালত সূত্রে জানা যায়, চরফ্যাশন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়া উচ্চ আদালত থেকে আট সপ্তাহের জামিনে ছিলেন। নির্ধারিত সময় শেষে তিনি নিম্ন আদালতে হাজিরা দিতে গেলে বিচারক তাঁর জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, চরফ্যাশন পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাপুড়িয়াপট্টির বাসিন্দা ও দধি ব্যবসায়ী মো. সালাম আদালতে মামলা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর পরিবার প্রায় ৫৫ বছর ধরে স্থানীয় বাজারে একটি দোকানে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। সম্প্রতি মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়াসহ তিনজন অভিযুক্ত ওই দোকান দখলের চেষ্টা শুরু করেন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, চলতি বছরের ৭ এপ্রিল দুপুরে অভিযুক্তরা দোকানে গিয়ে ব্যবসায়ীর কাছে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। দাবিকৃত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে মারধর করা হয়। পরে দোকানের তালা ভেঙে নতুন তালা লাগিয়ে দেওয়া হয় এবং টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত দোকান না খোলার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বাদীর ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এলে অভিযুক্তরা বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে চলে যান। পরে বিষয়টি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও বাজার ব্যবসায়ী সমিতিকে জানানো হলেও কোনো সমাধান হয়নি। অভিযুক্তদের প্রভাবের কারণে থানায় মামলা করতে না পেরে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন।
মামলায় মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়া, মো. আরাফাত হোসেন মালতিয়া ও মো. ফাহাদ হোসেন মালতিয়ার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩২৩, ৪৪৭, ৪২৭, ৩৮৫ এবং ৫০৬(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালত অভিযোগ গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
ভোলা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পরিদর্শক (সিআই) শেখ মো. নাসির উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, উচ্চ আদালতের দেওয়া জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নিম্ন আদালতে হাজির হলে বিচারক তাঁর জামিন আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন এবং তাঁকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।
বিজ্ঞাপন
তবে এ ঘটনায় অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী এগিয়ে নেওয়া হবে।








