Logo

শেখ হাসিনাসহ ৫০ জন অভিযুক্ত, সত্যতা মেলেনি ৪৯ জনের বিরুদ্ধে

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১ আগস্ট, ২০২৬, ১৯:৩০
শেখ হাসিনাসহ ৫০ জন অভিযুক্ত, সত্যতা মেলেনি ৪৯ জনের বিরুদ্ধে
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুর-১০ গোলচত্বরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে রাকিব হোসেন (২৯) নিহতের ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৯৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ১০০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছিল। তদন্ত শেষে শেখ হাসিনাসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তবে ৪৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. মমিনুল ইসলাম গত ১৩ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। তিনি জানান, তদন্তে পাওয়া তথ্য ও সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে ৫০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ঘটনার সময় মিরপুর এলাকায় উপস্থিত না থাকা এবং অসৎ উদ্দেশ্যে এজাহারে নাম অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় ৪৯ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে থাকা অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ, পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য মাইনুল হোসেন খান নিখিল, কামাল আহমেদ মজুমদার ও ইলিয়াস মোল্লা।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা এসএম মান্নান কচি, এখলাস উদ্দিন মোল্লা এবং সাবেক কাউন্সিলর কাসেম মোল্লার নামও অভিযোগপত্রে রয়েছে।

অব্যাহতির সুপারিশ করা ৪৯ জনের মধ্যে রয়েছেন সাবেক এমপি ও আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন খান, কুষ্টিয়া-৩ আসনের সাবেক এমপি কামরুল আরেফিন, পাবনা-৪ আসনের সাবেক এমপি গালিবুর রহমান শরিফ, আলোক হেলথকেয়ার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. লোকমান হোসেন এবং গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ইলিয়াস আহমেদ তালুকদার।

অভিযোগপত্রে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ২০১৮ সালের ১২ জুলাই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সরকারি প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল করা হয়েছিল। পরে ২০২৪ সালের ৫ জুন উচ্চ আদালত ওই প্রজ্ঞাপনকে অবৈধ ঘোষণা করলে কোটা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়।

বিজ্ঞাপন

২০২৪ সালের জুলাইয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দাবি আদায়ে রাজপথে নামেন। একপর্যায়ে আন্দোলন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, আন্দোলন দমনে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রতিহত করার চেষ্টা করেন। একই সময়ে সরকার আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে না নিয়ে বিভিন্ন কৌশল নেয় এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিষয়ে বিভিন্ন বক্তব্য দেওয়া হয়। একপর্যায়ে কোটা সংস্কারের আন্দোলন বৃহত্তর আন্দোলনে রূপ নেয়।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, এজাহারভুক্ত আসামি শেখ হাসিনার সঙ্গে অভিযোগপত্রে থাকা অন্য আসামিরা বৈঠক করে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে নির্দেশনা দেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা ও পুলিশের কর্মকর্তারাও আন্দোলন দমনে বিভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন বলে তদন্ত কর্মকর্তার দাবি।

বিজ্ঞাপন

তদন্ত কর্মকর্তার মতে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে সারাদেশের পাশাপাশি মিরপুরের ছাত্র-জনতার আন্দোলনও সহিংসভাবে দমনের চেষ্টা করেন।

মামলার তদন্তের সময় নিহত রাকিব হোসেনের মরদেহ কবর থেকে তুলে ময়নাতদন্তের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছিল। আদালতের নির্দেশে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মরদেহ উত্তোলনের জন্য কবরস্থানে গেলেও পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের আপত্তির কারণে মরদেহ উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেন রাকিবুল হোসেন। ওইদিন রাত ৯টার দিকে আন্দোলনকারীদের একটি মিছিল মিরপুর-১০ গোলচত্বরে পৌঁছালে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ সময় অজ্ঞাত এক ব্যক্তির গুলিতে রাকিবুলের গলার বাঁ পাশে গুলি লাগে।

বিজ্ঞাপন

পরে উপস্থিত লোকজন তাকে কাছের ড. আজমল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক রাত ৯টা ১৫ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে মামলার বাদী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক ঝিনাইদহ থেকে ঢাকায় আসেন। রাত ১টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ নিয়ে ঝিনাইদহের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। তৎকালীন পরিস্থিতিতে সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরদিন ২০ জুলাই ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু থানার বাসুদেবপুর পারিবারিক কবরস্থানে রাকিবুলকে দাফন করা হয়।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনায় ২০ সেপ্টেম্বর মিরপুর মডেল থানায় মামলা করেন আবু বক্কর।

মামলার বাদী জানান, রাকিবুল তার দুই ছেলের মধ্যে ছোট। তিনি মিরপুর ক্যান্টনমেন্টের এমআইএসটি ইউনিভার্সিটি থেকে ২০২১ সালে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি শেষ করেন। পরে সুপার জুটমিলের বনানী প্রধান কার্যালয়ে সহকারী ব্যবস্থাপক হিসেবে চাকরি করতেন। মিরপুর-১১ এলাকায় একটি মেসে থাকতেন তিনি।

আবু বক্কর বলেন, ঘটনার রাতে ছেলের বন্ধুরা ফোন করে তাকে মৃত্যুর খবর দেন। তবে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান।

বিজ্ঞাপন

তিনি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে বলেন, তিনি ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD