Logo

ভাড়াটে লোক দিয়ে সাবেক স্ত্রীকে হত্যা, জামায়াত নেতা কারাগারে

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুর
৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৫
ভাড়াটে লোক দিয়ে সাবেক স্ত্রীকে হত্যা, জামায়াত নেতা কারাগারে
ছবি: সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে বৃদ্ধা নারী সালেহা বেগম হত্যা মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামি আবু বকর ছিদ্দিক নামে এক জামায়াত নেতাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক স্ত্রীকে হত্যার জন্য ভাড়াটে খুনি নিয়োগ দিয়েছিলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে আবু বকর ছিদ্দিক নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাদেকুর রহমান তার আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আবু বকর ছিদ্দিক কমলনগর উপজেলার চর কালকিনি ইউনিয়ন জামায়াতের রুকন। তিনি একই ইউনিয়নের চর সামছুদ্দিন গ্রামের আলী উল্যা হাওলাদারের ছেলে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, বৃদ্ধা সালেহা বেগমকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলার চার্জশিটে আবু বকর ছিদ্দিককে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, সালেহার সঙ্গে গোপনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেও পরে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর জমি কেনার কথা বলে সালেহার কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধ সৃষ্টি হয়। সেই বিরোধের জেরে মো. সেলিম নামে এক ভাসমান ব্যক্তিকে দিয়ে ২০২৫ সালের ১৫ জুন দিবাগত রাতে সালেহাকে হত্যা করানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

চার্জশিট ও থানা পুলিশ জানায়, ২০২৫ সালের ১৬ জুন কমলনগরের মতিরহাট সংলগ্ন মেঘনা নদীর তীরে এক ব্যক্তির পরিত্যক্ত ভিটায় সাহেলা বেগমের মরদেহ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় তার মেয়ে ফাতেমা বেগম অজ্ঞাতদের নামে মামলা করেন। কমলনগর থানা পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়। সেলিম নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করলে তিনি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন।

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সেলিম স্বীকার করেন, সালেহাকে নির্জন স্থানে নিয়ে তিনি গলা টিপে অচেতন করেন। পরে তাকে ধর্ষণ করে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। সালেহার কাছে থাকা স্বর্ণালংকার নিয়ে তিনি আত্মগোপনে চলে যান।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

চার্জশিটে উল্লিখিত সেলিমের জবানবন্দি অনুযায়ী, ‘সালেহার সঙ্গে আবু বকর ছিদ্দিকের গোপনে বিয়ে হয়। জমি কেনার কথা বলে সালেহার কাছ থেকে আবু বকর ৩০ লাখ টাকা নেন। কিন্তু জমি কিনে না দিয়ে উল্টো আরও ২০ লাখ টাকা দাবি করেন। এনিয়ে তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। আবু বকর ছিদ্দিক ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে সালেহাকে হত্যার জন্য সেলিমকে ভাড়া করেন। সেলিমের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে থানা পুলিশ সেলিম এবং আবু বকর ছিদ্দিককে অভিযুক্ত করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। আসামি সেলিম কারাগারে থাকলেও আবু বকর পলাতক থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।’

বাদীর আইনজীবী আমজাদ হোসাইন বলেন, চার্জশিটভুক্ত দ্বিতীয় আসামি আবু বকর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। হত্যা মামালটি বিচারাধীন রয়েছে।

নিহত সালেহা বেগমের ছেলে শরীফ উদ্দিন ও মো. আরিফুল ইসলাম দাবি করেন, আবু বকর ছিদ্দিক জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তিনি লম্পট স্বভাবের ব্যক্তি। তাদের ভাষ্য, তিনি এ পর্যন্ত সাতটি বিয়ে করেছেন। অর্থের লোভে পড়ে সবার অজান্তে তাদের মাকেও বিয়ে করেছিলেন। পরে সম্পর্কের অবনতি ঘটলে ক্ষোভ থেকে ভাড়াটে লোক দিয়ে তাদের মাকে হত্যা করান। তারা এ ঘটনায় জড়িত দুই আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD