Logo

পৃথক মামলার সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে না: হাইকোর্ট

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৭:১৩
পৃথক মামলার সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে না: হাইকোর্ট
ছবি: সংগৃহীত

একাধিক ফৌজদারি মামলায় পৃথকভাবে দণ্ডিত কোনো আসামির সাজা আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা ছাড়া একই সময়ে কার্যকর হবে না বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একটি মামলার সাজা শেষ হওয়ার পর পরবর্তী মামলার সাজা কার্যকর হবে। তবে কোনো মামলার বিচার চলাকালে আসামি কারাগারে থাকলে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫-এ ধারা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মামলার সাজার মেয়াদ থেকে ওই কারাভোগের সময় বাদ দেওয়ার সুযোগ থাকবে।

বিজ্ঞাপন

চেক ডিজঅনারের পৃথক ছয় মামলায় দণ্ডিত মো. নাসির উদ্দিনের সাজা শেষ হওয়ার পরও তাকে কারাগারে আটকে রাখার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিটের রুল খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায়ে এসব পর্যবেক্ষণ দেন আদালত।

বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ২০২৫ সালের ২৭ আগস্ট রায় দেন। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়েছে। রায়ের মূল অংশ লিখেছেন বিচারপতি শেখ তাহসিন আলী।

‘মো. নাসির উদ্দিন বনাম রাষ্ট্র’ মামলার রায়ে নাসির উদ্দিনকে রায় ও আদেশের তারিখ থেকে দুই মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করলে তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারায় দায়ের করা চেক ডিজঅনারের ছয়টি পৃথক মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ডিত হন। ২০২১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বিভিন্ন মামলাতেও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

বিজ্ঞাপন

সাজা ভোগের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বেআইনিভাবে তাকে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে—এমন অভিযোগে ২০২২ সালে হাইকোর্টে রিট করেন নাসির উদ্দিন। প্রাথমিক শুনানি শেষে ওই বছরের ১১ এপ্রিল আদালত রুল জারি করেন এবং তাকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন।

রিটের শুনানিতে নাসির উদ্দিনের আইনজীবী মো. শাহ আলম যুক্তি দেন, বিচারাধীন থাকার সময় নাসির কারাগারে ছিলেন। ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫-এ ধারার অধীনে ওই সময় সাজা থেকে বাদ দিলে তার সাজা ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে।

অন্যদিকে বিবাদীপক্ষের আইনজীবী মো. সমীর সাত্তার যুক্তি দেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৯৭ ধারা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি এক মামলায় দণ্ডিত হওয়ার পর অন্য মামলাতেও দণ্ডিত হলে আদালত স্পষ্টভাবে সাজা একই সঙ্গে চলার নির্দেশ না দিলে সাজাগুলো ধারাবাহিকভাবে কার্যকর হবে।

বিজ্ঞাপন

হাইকোর্ট রায়ে বলেন, বিচার চলাকালে কোনো আসামি যে নির্দিষ্ট মামলায় কারাভোগ করেছেন, কেবল সেই মামলায় আরোপিত সাজার মেয়াদ থেকেই ওই সময় বাদ যাবে। অন্য মামলায় ভোগ করা সাজা বা কারাভোগের সময় পৃথক মামলার সাজা থেকে বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

আদালত আরও বলেন, নাসির উদ্দিনের পৃথক মামলাগুলোতে বিচারিক আদালত সাজা একই সঙ্গে চলার কোনো নির্দেশ দেননি। ফলে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৯৭ ধারা অনুযায়ী প্রতিটি মামলার সাজা ধারাবাহিকভাবে কার্যকর হবে।

রায়ে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা না হলে রিট এখতিয়ারে ফৌজদারি কার্যক্রম বাতিলের সুযোগ নেই। একইভাবে রিটের মাধ্যমে বিচারিক আদালতের দেওয়া ফৌজদারি দণ্ডের রায়েও হস্তক্ষেপ করা যায় না।

এ ছাড়া ছয়টি মামলায় বিচার চলাকালে নাসির উদ্দিনের কারাভোগের সময় নির্ধারণ করে একটি ‘ক্যালকুলেশন শিট’ প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিম্ন আদালতের নথি পর্যালোচনা করে হিসাবটি কারা কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে বলা হয়। এরপর ৩৫-এ ধারা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মামলার সাজার মেয়াদ থেকে বিচারাধীন অবস্থায় আটক থাকার সময় যথাযথভাবে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD