বেনজীরের অবৈধ সম্পদ মামলায় শেষের পথে সাক্ষ্যগ্রহণ

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষের পথে। এ মামলায় নির্ধারিত ৩৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন আদালত। বাকি দুজনের সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৫ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এ আরও ১২ জন সাক্ষ্য দেন। বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালতে তাঁদের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মীর আহমেদ আলী সালাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এদিন সাক্ষ্য দেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তা, গণপূর্ত বিভাগের কর্মচারী, দুদকের একজন কর্মী এবং সংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ছিলেন। তাঁদের সাক্ষ্য মামলায় বেনজীর আহমেদের সম্পদ ও আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত অভিযোগের বিচারিক পর্যালোচনার অংশ।
তবে আসামি আদালতে উপস্থিত না থাকায় সাক্ষীদের জেরা করা সম্ভব হয়নি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর মামলাটি দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। এতে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং অর্থপাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, সম্পদ বিবরণীতে বেনজীর আহমেদ নিজের নামে ৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকার বেশি স্থাবর সম্পদ এবং প্রায় ৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে তদন্তে তাঁর নামে ঘোষণার চেয়ে বেশি সম্পদের তথ্য পাওয়ার কথা উল্লেখ করেছে দুদক। সংস্থাটির দাবি, স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৭ কোটি ৫২ লাখ টাকার বেশি এবং অস্থাবর সম্পদ ৮ কোটি ১৫ লাখ টাকার বেশি।
দুদকের হিসাব অনুযায়ী, বেনজীর আহমেদের বৈধ আয়ের উৎস ছিল প্রায় ৬ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। ব্যয় বাদ দিয়ে তাঁর নিট সঞ্চয় নির্ধারণ করা হয় ৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকার বেশি। এর বিপরীতে ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, অর্থের উৎস ও মালিকানা আড়াল করতে ব্যাংক হিসাব, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং যৌথ মূলধনী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ বিনিয়োগ, স্থানান্তর ও রূপান্তর করা হয়েছে।
২০২৬ সালের ৮ মার্চ আদালত অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। পরে ৩ মে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলার বিচার শুরু হয়।
আগামী ৫ নভেম্বর বাকি দুই সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের পর মামলার পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। অভিযোগগুলোর সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।








