Logo

বিশ্ববাজারে ফের বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৬ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩১
বিশ্ববাজারে ফের বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক বাজারে টানা চতুর্থ দিনের মতো ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। ইরানের সামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলা এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কাকে কেন্দ্র করে বাজারে এ দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার শঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের ফিউচারের দাম ৩৩ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৮৫ দশমিক ২৮ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের ফিউচারের দাম ৪২ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৮০ দশমিক ০২ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

এর আগের দিন বুধবারও উভয় সূচকের দাম প্রায় শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছিল। ফলে তেলের বাজার বর্তমানে মঙ্গলবার স্পর্শ করা এক মাসের সর্বোচ্চ অবস্থানের কাছাকাছি অবস্থান করছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে নতুন হামলা চালানোর পাশাপাশি দেশটির বন্দরগুলোতে পুনরায় নৌ অবরোধ আরোপ করেছে। এর জবাবে ইরান আঞ্চলিক জ্বালানি রফতানি আরও সীমিত করার হুমকি দিয়ে জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘অস্তিত্বের যুদ্ধে’ লিপ্ত।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

নিসান সিকিউরিটিজ ইনভেস্টমেন্টের প্রধান কৌশলবিদ হিরোয়ুকি কিকুকাওয়া বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের নতুন উত্তেজনার কারণে বাজারে তেল কেনার প্রবণতা বেড়েছে। যদিও বিভিন্ন দেশের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা চলছে এবং বাজারের ধারণা, এখনই পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের সম্ভাবনা কম। তবে পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৫ থেকে ৮৭ ডলারে উঠতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, চলতি সপ্তাহে তেলের দাম বাড়ার প্রধান কারণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের আশঙ্কা। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হতো।

বিজ্ঞাপন

এদিকে ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে, তারা ইয়েমেনের হুথি মিত্রদের মাধ্যমে বাব এল-মানদেব প্রণালীর প্রবেশপথেও চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দুই জ্বালানি সরবরাহ পথই ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাক্সের পূর্বাভাস অনুযায়ী, উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল রফতানি স্বাভাবিক হতে দেরি হলে চলতি বছরের শেষ প্রান্তিকে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে উত্তেজনা কমে উৎপাদন দ্রুত বাড়লে বছর শেষে দাম আবার ৬০ ডলারের ঘরে নেমে আসার সম্ভাবনাও রয়েছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১০ জুলাই শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশটির অপরিশোধিত তেলের মজুত ১৭ লাখ ব্যারেল কমেছে। যদিও বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা ছিল, ওই সময়ে মজুত কমবে প্রায় ২৬ লাখ ব্যারেল। ফলে মজুত প্রত্যাশার তুলনায় কম হারে কমলেও মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাই আপাতত আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের বাজারে দামের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।

বিজ্ঞাপন

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD