Logo

বিতর্কের পর কোয়ান্টাম বিষয়ে সেই পত্র স্থগিত করল মন্ত্রণালয়

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৪ মার্চ, ২০২৬, ১৪:১৪
বিতর্কের পর কোয়ান্টাম বিষয়ে সেই পত্র স্থগিত করল মন্ত্রণালয়
ছবি: সংগৃহীত

বিভিন্ন মহলে সমালোচনার মুখে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) জারি করা ‘বৈজ্ঞানিক লাইফস্টাইল ডেভেলপমেন্ট এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম’ সংক্রান্ত একটি পত্র স্থগিত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের প্রস্তুত করা এই কার্যক্রম নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (১৪ মার্চ) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ৫ মার্চ মাউশি থেকে জারি করা ওই পত্রটি আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন কর্তৃক প্রস্তুতকৃত ‘বৈজ্ঞানিক লাইফস্টাইল ডেভেলপমেন্ট এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম’ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত নির্দেশনা আপাতত কার্যকর থাকবে না।

এর আগে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই কার্যক্রমের আওতায় প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়। বিষয়টি নিয়ে প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দিলে আলোচনার সূত্রপাত হয়।

বিজ্ঞাপন

তার পোস্টে তিনি দাবি করেন, বান্দরবানের লামা এলাকায় প্রায় ২ হাজার ৫০০ একর জমিতে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের একটি বড় কেন্দ্র রয়েছে, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সেখানে প্রায় ১ হাজার ২০০ কর্মী কাজ করেন এবং কী ধরনের প্রশিক্ষণ পরিচালিত হয়, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সাধারণভাবে পাওয়া যায় না। এমনকি ওই স্থানে প্রবেশের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট অনুমতির প্রয়োজন হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া ওই পোস্টে আরও বলা হয়, অতীতের এক পর্যায়ে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছিল। সেই চুক্তির আওতায় দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘বৈজ্ঞানিক লাইফস্টাইল ডেভেলপমেন্ট এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা’ নামে একদিনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

পরিকল্পনা অনুযায়ী, কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন তাদের নিজস্ব ভেন্যুতে এই প্রশিক্ষণ আয়োজন করবে এবং এর ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হবে সংস্থাটির প্রস্তুত করা একটি ম্যানুয়াল। সেই ম্যানুয়াল অনুসরণ করে দেশের প্রায় ২০ হাজারের বেশি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।

জানা যায়, কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে ১২৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের নিয়ে একটি পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। মূলত শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার সময় অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—কোন প্রক্রিয়ায় কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনকে এ ধরনের জাতীয় পর্যায়ের কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং কী কারণে তারা দেশের এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে মেডিটেশনভিত্তিক প্রশিক্ষণ দিতে চায়।

এছাড়া প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার সময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের সম্ভাবনা নিয়ে নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট প্রশ্নও উত্থাপিত হয়েছে। সমালোচকদের মতে, এ ধরনের তথ্য ব্যবস্থাপনা যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রিত না হলে তা ভবিষ্যতে জাতীয় নিরাপত্তা বা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

এসব প্রশ্ন ও সমালোচনার প্রেক্ষাপটে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়টি পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং আপাতত সংশ্লিষ্ট পত্র স্থগিত রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে জানা গেছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD