নকলের দিন শেষ, চালু হচ্ছে শিক্ষামন্ত্রীর ‘হেলিকপ্টার মিশন’

আসন্ন এসএসসি, এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় নকল ও অনিয়ম রোধে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। এবারের পরীক্ষায় সবচেয়ে আলোচিত উদ্যোগ হিসেবে ধরা হচ্ছে মন্ত্রীর ‘হেলিকপ্টার মিশন’।
বিজ্ঞাপন
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার প্রশ্নপত্র ফাঁস, কেন্দ্রে অনিয়ম বা অভ্যন্তরীণ দুর্নীতির ঘটনাগুলো প্রতিরোধ করতে আকাশপথ ব্যবহার করে হঠাৎ অভিযান চালানো হবে। সড়কপথে অভিযান করলে স্থানীয় প্রশাসন বা কেন্দ্র সচিবরা আগেভাগেই সতর্ক হয়ে যায়, যা ঝটিকা অভিযানকে ব্যাহত করে। তাই এবার শিক্ষামন্ত্রী নিজেই হেলিকপ্টারে চড়ে যেকোনো কেন্দ্রে যেকোনো মুহূর্তে উপস্থিত হতে পারবেন।
এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো— দেশের সব কেন্দ্রে, বিশেষ করে দুর্গম অঞ্চল, চরাঞ্চল, উপকূলীয় এলাকা ও পাহাড়ি অঞ্চলে, নজরদারি নিশ্চিত করা। শিক্ষামন্ত্রীর সরাসরি উপস্থিতি শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের কাছে একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।
বিজ্ঞাপন
শিক্ষার্থী ও কেন্দ্র কর্মকর্তাদের জন্য এবার বিশেষ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ‘গ্রেস মার্ক’ বা অনুকম্পার নম্বর দেওয়া হবে না। শিক্ষার্থীরা যা লিখবে, তার ভিত্তিতেই নম্বর প্রদান করা হবে। এছাড়া, কোনো কেন্দ্রে অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের পাশাপাশি কেন্দ্র সচিব এবং দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবার কোনো ‘ভেন্যু কেন্দ্র’ চালু হবে না; শুধুমাত্র মূল কেন্দ্রগুলোতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া, বিজি প্রেস থেকে শুরু করে কেন্দ্রে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের আওতায় থাকবে।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেন, আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষাজীবন নিয়ে কোনো আপস করতে রাজি নই। পরীক্ষার কেন্দ্রের পবিত্রতা রক্ষা করতে নিজেই যেকোনো মুহূর্তে হেলিকপ্টার নিয়ে হাজির হব। শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রকৃত মেধার ভিত্তিতে মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি সহ্য করা হবে না।
বিজ্ঞাপন
এছাড়া, কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের মাধ্যমে লাইভ মনিটরিং ব্যবস্থা চালু থাকবে। কোনো কেন্দ্রে অস্বাভাবিক ঘটনা ধরা পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে সরাসরি নজরদারি করা হবে।
মন্ত্রণালয় আশা করছে, এই পদক্ষেপ দেশের সকল পরীক্ষার্থী ও কেন্দ্র কর্মকর্তাদের জন্য একটি শক্তিশালী সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে এবং এবারের পরীক্ষা হবে সম্পূর্ণ নকলমুক্ত ও স্বচ্ছ।








