বিশ্ববিদ্যালয়ের পর স্কুল-কলেজেও র্যাগ ডে বন্ধের নির্দেশ

দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের সব স্কুল ও কলেজে ‘র্যাগ ডে’-এর নামে উদযাপিত অশ্লীলতা, নগ্নতা, ডিজে পার্টি ও অশোভন আচরণ বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। বিশ্ববিদ্যালয়ে আগে থেকে কার্যকর করা এই নির্দেশনা এবার স্কুল-কলেজ পর্যায়েও বাস্তবায়িত হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
মাউশি সূত্রে জানা গেছে, দেশজুড়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে র্যাগ ডে উদযাপনের অগ্রগতি মনিটর করার জন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে তথ্য দাখিল করতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনের সার-সংক্ষেপ ৩০ মার্চের মধ্যে নির্দিষ্ট ছক অনুযায়ী মাউশিতে জমা দিতে হবে।
নতুন নির্দেশনার আওতায় শুধুমাত্র অশোভন আচরণ ও অশ্লীলতার বিরোধী ব্যবস্থা নেওয়া নয়, বরং ইভটিজিং প্রতিরোধ এবং ছাত্র-ছাত্রীদের রাতে পড়াশোনায় মনোযোগী করার জন্য সচেতনতা বৃদ্ধি সম্পর্কিত পদক্ষেপের তথ্যও সংগ্রহ করতে হবে। মাউশির মনিটরিং এন্ড ইভালুয়েশন উইং থেকে সম্প্রতি আঞ্চলিক পরিচালক এবং উপ-পরিচালকদের বরাবর চিঠি পাঠানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর/সংস্থার সঙ্গে সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মাদকের কুফল প্রতিরোধ ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার পাশাপাশি র্যাগ ডে উদযাপনে বিশৃঙ্খলা বন্ধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর পদক্ষেপের অগ্রগতি জানতে চাওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদন জমা দেওয়ার ছকে উল্লেখ করতে হবে— অঞ্চলের নাম, আওতাধীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পদক্ষেপ বাস্তবায়নকৃত প্রতিষ্ঠানের শতকরা হার, বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানের শতকরা হার (যদি থাকে), ব্যর্থতার কারণ এবং মন্তব্য।
বিজ্ঞাপন
ইউজিসি ২০২২ সালের ৩ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে র্যাগ ডে উদযাপনের নামে সংঘটিত অশোভন আচরণ, ডিজে পার্টি, নগ্নতা ও বুলিং বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল। উচ্চ আদালতের নির্দেশে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।
এর আগে ২০২২ সালের ৭ এপ্রিল স্কুল-কলেজে র্যাগ ডে উদযাপনে ডিজে পার্টি, উদ্দাম নৃত্য, বুলিং ও অপসংস্কৃতি বন্ধের জন্য হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়। ১৭ এপ্রিল হাইকোর্ট ৩০ দিনের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে র্যাগ ডে উদযাপনের সময় বুলিং, নগ্নতা ও অশোভন কর্মকাণ্ড বন্ধ করার নির্দেশ দেয়।








