Logo

৩ দিন নয়, ১ দিন অনলাইন ক্লাসের প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২ এপ্রিল, ২০২৬, ১৪:১৫
৩ দিন নয়, ১ দিন অনলাইন ক্লাসের প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের
ছবি: সংগৃহীত

দেশে চলমান জ্বালানি সংকটের প্রভাব মোকাবিলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস পরিচালনায় নতুন পরিকল্পনা করছে সরকার। মহানগরীর স্কুল ও কলেজগুলোতে অনলাইন এবং সশরীর পাঠদানের সমন্বয়ে একটি কাঠামো নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রাথমিকভাবে বিকল্প দিনগুলোতে অনলাইন ও অফলাইন ক্লাস চালুর ধারণা থাকলেও আপাতত সপ্তাহে একদিন অনলাইন ক্লাস চালুর প্রস্তাব দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনা করে সীমিত আকারে এই উদ্যোগ শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সপ্তাহে একদিন অনলাইনে পাঠদান চালুর একটি প্রস্তাব ইতোমধ্যে মন্ত্রিপরিষদে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে বিষয়টি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে বলে জানা গেছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে ধীরে ধীরে অনলাইন ক্লাসের পরিধি বাড়ানোর চিন্তাভাবনা রয়েছে। তবে শুরুতে সপ্তাহে একদিন অনলাইন ক্লাস চালুর প্রস্তাবই দেওয়া হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা নতুন ব্যবস্থার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারেন।

বিজ্ঞাপন

এর আগে, বুধবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক বৈঠকে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। সেখানে তিনি বিকল্প দিনগুলোতে অনলাইন ও অফলাইন ক্লাস চালুর একটি পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

প্রস্তাব অনুযায়ী, সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাসের মধ্যে জোড়-বিজোড় পদ্ধতিতে তিন দিন অনলাইন এবং তিন দিন সশরীর ক্লাস নেওয়ার ধারণা ছিল।

তবে এ প্রস্তাব নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। তারা অনলাইন ক্লাস পরিচালনায় নানা সীমাবদ্ধতার বিষয় তুলে ধরেন। বিশেষ করে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতার অভাব এবং প্রয়োজনীয় ডিভাইসের সংকট বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত হয়। অনেক পরিবারের পক্ষেই শিশুদের নিয়মিত অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা কঠিন হবে বলেও জানান শিক্ষকরা।

বিজ্ঞাপন

শিক্ষকদের পক্ষ থেকে এ সময় অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থা কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় ডিভাইস সরবরাহের দাবি জানানো হয়। তাদের মতে, অবকাঠামোগত প্রস্তুতি ছাড়া বড় পরিসরে অনলাইন ক্লাস চালু করলে শিক্ষার্থীদের শেখার প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে।

এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা। অন্যদিকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান জানান, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানতে আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD