দেশের ২৮৪৭ গ্রামে নেই প্রাথমিক বিদ্যালয়: শিক্ষামন্ত্রী

দেশের সব গ্রামে এখনো প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ পৌঁছায়নি—এমন বাস্তব চিত্র উঠে এসেছে জাতীয় সংসদে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে এখনও ২ হাজার ৮৪৭টি গ্রামে কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে লিখিত প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এক সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে তিনি দেশের গ্রামভিত্তিক প্রাথমিক শিক্ষার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানান।
প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়, দেশের প্রতিটি গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে কিনা এবং যেসব গ্রামে বিদ্যালয় নেই, সেসব গ্রামের সংখ্যা ও নাম কী। একইসঙ্গে এসব এলাকায় নতুন করে সরকারি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কিনা, তাও জানতে চান তিনি।
বিজ্ঞাপন
জবাবে শিক্ষামন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানান, দেশের প্রতিটি গ্রামে এখনও প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি। বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশি বিদ্যালয়বিহীন গ্রাম রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে—৮১৮টি। এরপর ঢাকা বিভাগে রয়েছে ৭১৭টি গ্রাম।
এছাড়া রাজশাহী বিভাগে ৩৫৫টি, খুলনা বিভাগে ৩৪৯টি, সিলেট বিভাগে ২৬০টি এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ২৬৬টি গ্রামে কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। তুলনামূলকভাবে কম সংখ্যক বিদ্যালয়বিহীন গ্রাম রয়েছে বরিশাল বিভাগে—৪৫টি এবং রংপুর বিভাগে—৩৭টি।
এই পরিসংখ্যান দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জকে সামনে নিয়ে এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে প্রান্তিক ও দুর্গম এলাকার শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে অবকাঠামোগত ঘাটতি এখনও বড় বাধা হিসেবে রয়ে গেছে।
বিজ্ঞাপন
তবে সরকার এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে যেসব গ্রামে বিদ্যালয় নেই, সেসব এলাকায় নতুন বিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব এলে তা যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিদ্যালয় স্থাপনের ক্ষেত্রে জনসংখ্যা, শিক্ষার্থীর সংখ্যা, ভৌগোলিক অবস্থানসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা হবে। এর মাধ্যমে ধাপে ধাপে বিদ্যালয়বিহীন গ্রামগুলোতে শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের প্রতিটি শিশুকে প্রাথমিক শিক্ষার আওতায় আনতে হলে এসব বিদ্যালয়বিহীন গ্রামকে অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।








