শিক্ষকদের বদলি আবেদনের সম্ভাব্য সময় জানাল শিক্ষা মন্ত্রণালয়

বেসরকারি স্কুল ও কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য বহুল প্রত্যাশিত বদলি প্রক্রিয়া আগামী মে মাসের মাঝামাঝি শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে এ কার্যক্রম শুরুর আগে বদলি সংক্রান্ত সফটওয়্যার তৈরির নতুন চুক্তি সম্পন্ন করা জরুরি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বিজ্ঞাপন
মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সূত্র অনুযায়ী, শিক্ষকদের আবেদনের ভিত্তিতেই বদলি কার্যক্রম পরিচালিত হবে। পাশাপাশি বিশেষ ক্ষেত্রে সরকার প্রয়োজনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে কোনো শিক্ষককে বদলি করতে পারবে—এ বিষয়টিও নতুন সফটওয়্যারে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এ অতিরিক্ত ফিচার যুক্ত করতে সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে বাড়তি পাঁচ লাখ টাকা প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, পুরো বদলি সফটওয়্যার তৈরিতে ব্যয় ধরা হয়েছে মোট ২৫ লাখ টাকা। নতুন করে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) মাঠপর্যায়ে শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ শুরু করবে। এ কাজের জন্য ১৫ দিনের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর সংগৃহীত তথ্য সফটওয়্যারে যুক্ত করে আনুষ্ঠানিকভাবে বদলি আবেদন গ্রহণ শুরু করা হবে।
বিজ্ঞাপন
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, আগামী ২০ এপ্রিলের মধ্যে সফটওয়্যার সংক্রান্ত চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর তথ্য সংগ্রহ শেষে মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে বদলি আবেদন কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। সবকিছু নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী এগোলে তখনই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে এনটিআরসিএর সুপারিশে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের জন্য সরাসরি বদলির সুযোগ ছিল না। তারা গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আবেদন করে প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের সুযোগ পেতেন। প্রথম থেকে তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তি পর্যন্ত এ সুযোগ থাকলেও চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তি থেকে তা বন্ধ হয়ে যায়।
বিজ্ঞাপন
পরবর্তীতে শিক্ষকদের আন্দোলনের মুখে বদলি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং একটি নীতিমালাও প্রণয়ন করে। তবে রিট মামলা, সফটওয়্যার প্রস্তুতিতে বিলম্ব ও নীতিমালার সংশোধনসহ বিভিন্ন কারণে দীর্ঘদিন ধরে এ কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি। যদিও সংশোধিত নীতিমালা ইতোমধ্যে জারি হয়েছে, সফটওয়্যার প্রস্তুত না থাকায় বদলি প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।
এ অবস্থায় সফটওয়্যারের ডেমো উপস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সম্পূর্ণ প্রস্তুত না থাকায় পুনরায় ডেমো প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বদলি কার্যক্রম শিগগিরই বাস্তবায়নের পথে এগোবে।







