চায়ের দোকানে এইচএসসি পরীক্ষার খাতা দেখছিলেন শিক্ষক, জব্দ ৪০০ খাতা

সিলেটে গভীর রাতে একটি চায়ের দোকানে বসে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের সময় এক পরীক্ষককে আটক করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৪০০টি উত্তরপত্র জব্দ করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ওই শিক্ষকের সঙ্গে থাকা কয়েকজন বন্ধুও উত্তরপত্র মূল্যায়নের কাজে যুক্ত ছিলেন।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (১ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে এ ঘটনা ঘটে। পরে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা সেখানে অভিযান চালিয়ে পরীক্ষক ও উত্তরপত্র নিজেদের হেফাজতে নেন।
আটক হওয়া পরীক্ষকের নাম ইকবাল হোসেন (সোহান)। তিনি সিলেটের মেট্রোসিটি উইমেন্স কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক এবং সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের নিয়োগপ্রাপ্ত পরীক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান, চায়ের দোকানের ভেতরে বসে উত্তরপত্র মূল্যায়নের কাজ চলছে। সেখান থেকে প্রায় ৪০০টি এইচএসসি পরীক্ষার খাতা জব্দ করা হয়। এরপর অভিযুক্ত শিক্ষককে বোর্ডের হেফাজতে নেওয়া হয়।
বিজ্ঞাপন
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ঘটনার সময় ইকবাল হোসেনের সঙ্গে কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তাদের মধ্যেও কেউ কেউ উত্তরপত্র মূল্যায়নে অংশ নিচ্ছিলেন। ঘটনাস্থলে একটি বস্তাভর্তি উত্তরপত্রও ছিল বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, আগের রাতেও একই স্থানে বসে অনুরূপভাবে খাতা মূল্যায়নের কাজ চলেছিল।
চায়ের দোকানের মালিক জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক ও তার পরিচিতরা প্রায়ই সেখানে আড্ডা দিতে আসতেন। ঘটনার রাতেও তারা দোকানের ভেতরে বসে খাতা দেখছিলেন। পরে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা এসে তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষকের এক বন্ধু দাবি করেছেন, তিনি উত্তরপত্র মূল্যায়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। তিনি শুধু বন্ধুর সঙ্গে সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে সাংবাদিকদের জানান।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন বলেন, খবর পাওয়ার পর বোর্ডের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরীক্ষককে উত্তরপত্র মূল্যায়নের সময় হাতে-নাতে আটক করেন। ঘটনাস্থল থেকে ৪০০টি খাতা জব্দ করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত শিক্ষক বর্তমানে বোর্ডের হেফাজতে রয়েছেন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই শেষে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, সিলেটের জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল হাবিব জানান, শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা অভিযুক্ত শিক্ষককে থানায় নিয়ে এসেছিলেন। পরে এ ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। এরপর তাকে পুনরায় শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের হেফাজতে দেওয়া হয়।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাবলিক পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কঠোর গোপনীয়তা ও নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। এমন পরিস্থিতিতে জনসমাগমস্থলে বসে খাতা মূল্যায়নের অভিযোগ এবং বাইরের ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। ফলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।








