এমপিও শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম শুরু, ‘সৌভাগ্যবান’ খাইরুল ইসলাম

দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার পর অবশেষে বেসরকারি এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম শুরু করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন নীতিমালার আওতায় প্রথমবারের মতো বদলির আদেশ পেয়েছেন কুমিল্লার এক মাদরাসা শিক্ষক খাইরুল ইসলাম। তাকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় বদলি করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (২ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। মাদরাসা বিভাগের উপসচিব মো. রাহাত মান্নান স্বাক্ষরিত ওই আদেশে বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, খাইরুল ইসলাম এতদিন কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার গোপালনগর মহিলা আলিম মাদরাসায় কর্মরত ছিলেন। নতুন আদেশ অনুসারে তিনি এখন চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার নিশ্চিন্তপুর ডি.এস. আলিয়া মাদরাসায় দায়িত্ব পালন করবেন। এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা-২০২৬–এর বিধি ৩.১৯ অনুযায়ী এ বদলির সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কারণে নিজ কর্মস্থল পরিবর্তনের সুযোগ না থাকায় অনেক শিক্ষক ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও পেশাগত সমস্যার মুখোমুখি হতেন। নতুন বদলি ব্যবস্থা চালু হওয়ায় সেই জটিলতা অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
খাইরুল ইসলামের নাম এর আগে আলোচনায় আসে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার পর। অভিযোগ ওঠে, একই প্রতিষ্ঠানের এক শিক্ষক জাহাঙ্গীরের সঙ্গে কথা কাটাকাটির জেরে তাকে একটি কক্ষে আটকে মারধর করা হয়। পরে শিক্ষার্থীদের সামনেই তার শার্টের কলার ধরে টানাহেঁচড়া করা হয়।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। শিক্ষক সমাজসহ বিভিন্ন মহল ওই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়। এরপর থেকেই খাইরুল ইসলামের কর্মস্থল পরিবর্তনের বিষয়টি আলোচনায় ছিল।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
অবশেষে নতুন বদলি নীতিমালার আওতায় তিনি অন্য প্রতিষ্ঠানে যোগদানের সুযোগ পেলেন।
বিজ্ঞাপন
বদলির আদেশ পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় খাইরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, তিনি এ সিদ্ধান্তে অত্যন্ত আনন্দিত। তিনি জানান, শিক্ষা উপদেষ্টা (তথ্য অনুযায়ী) ড. এহছানুল হক মিলন তাকে আগে থেকেই চাঁদপুরে বদলির বিষয়ে আশ্বস্ত করেছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হওয়ায় তিনি মহান আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
শিক্ষা খাত সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এটি শুধু একজন শিক্ষকের বদলিই নয়; বরং এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য নতুন বদলি ব্যবস্থার আনুষ্ঠানিক সূচনা। পর্যায়ক্রমে যোগ্যতা ও নীতিমালার শর্ত পূরণকারী আরও শিক্ষক এ সুবিধার আওতায় আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে।








