প্রাথমিকে সুপারিশ পেয়েও বাদ আড়াই হাজার প্রার্থী, কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা!

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এ চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে প্রায় আড়াই হাজার প্রার্থী এখনো নিয়োগপত্র না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বাদ পড়ার সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি দাবি করে পুনরায় ভেরিফিকেশনের উদ্যোগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ‘প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক ২০২৫ ব্যাচ’-এর পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব অভিযোগ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর ভেরিফিকেশনের নামে নিয়োগপত্র থেকে বঞ্চিত হওয়া প্রার্থীদের জন্য হতাশাজনক। তাদের দাবি, পুনরায় ভেরিফিকেশনের নামে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি না করে যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
প্রার্থীরা আরও প্রশ্ন তুলেছেন, প্রায় ২ হাজার ৫০০ জনকে কেন নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি, সে বিষয়ে তাদের স্পষ্ট কোনো কারণ জানানো হয়নি। নিয়োগ প্রক্রিয়ার দায়িত্ব কোন কর্তৃপক্ষের হাতে, তা নিয়েও বিভিন্ন দপ্তরের বক্তব্যে অস্পষ্টতা রয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীরা জানান, সরকারি চাকরির বিধিমালা অনুযায়ী ফৌজদারি অপরাধ, রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমে সক্রিয় থাকা বা সনদ জালিয়াতির মতো অভিযোগে অযোগ্য নন—এমন সব যোগ্য প্রার্থীকে নিয়োগপত্র দেওয়ার দাবি তাদের। ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিয়োগপত্র না পেলে কর্মসূচিতে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তারা।
তাদের দাবি, সব যোগ্য প্রার্থী যেন আগামী ১ অক্টোবর একসঙ্গে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে যোগ দিতে পারেন, সে ব্যবস্থা করতে হবে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। অধিদপ্তর এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছ থেকেও স্পষ্ট বক্তব্য না পাওয়ায় প্রার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
বিজ্ঞাপন
সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর লিখিত পরীক্ষা গত ৯ জানুয়ারি পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া দেশের ৬১ জেলায় একযোগে অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জনকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়। পরে ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফল প্রকাশের সময় ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
আগে থেকেই চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীর ১ অক্টোবর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদানের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। যোগদানের পর তাদের পদায়ন ও পরবর্তী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার কথা রয়েছে।
প্রার্থীদের অভিযোগের মধ্যে শনিবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে নিয়োগপত্র নিয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১ অক্টোবর পর্যন্ত উত্তীর্ণ কোনো প্রার্থী নিয়োগপত্র না পেলে যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে পর্যায়ক্রমে দ্রুত নিয়োগপত্র পাঠানো হবে।
বিজ্ঞাপন
মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে ভেরিফিকেশন বা ভেটিং একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। ফলে নিয়োগপত্র পাওয়ার প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করা হচ্ছে।








