Logo

প্রাথমিকে নিয়োগপত্র পাননি ৮৩ জন, যোগ দেননি ১৪৭১ জন

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১৯:২০
প্রাথমিকে নিয়োগপত্র পাননি ৮৩ জন, যোগ দেননি ১৪৭১ জন
ছবি: সংগৃহীত

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ও চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও ৮৩ জন নিয়োগপত্র থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। অন্যদিকে নিয়োগের সুযোগ পেয়েও চাকরিতে যোগ দেননি ১ হাজার ৪৭১ জন প্রার্থী।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিএ) পলিসি অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগের কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা, ২০২৫’-এর জন্য দুই ধাপে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে মোট শূন্যপদ ছিল ১৪ হাজার ৩৮৫টি। এসব পদের বিপরীতে আবেদন করেন ১০ লাখ ৮০ হাজার ৮০ জন। অর্থাৎ গড়ে প্রতিটি পদের বিপরীতে প্রায় ৭৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

প্রথম ধাপে রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগে ১০ হাজার ২১৯টি পদের বিপরীতে ৭ লাখ ৪৫ হাজার ৯২৯টি আবেদন জমা পড়ে। দ্বিতীয় ধাপে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের ৪ হাজার ১৬৬টি পদের বিপরীতে আবেদন করেন ৩ লাখ ৩৪ হাজার ১৫১ জন।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ৬৯ হাজার ২৬৫ জন। তাদের মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়। পরে গত ৮ ফেব্রুয়ারি সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে নিয়োগের জন্য চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করা হয়।

বিজ্ঞাপন

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর জেলাভিত্তিক নিয়োগের আদেশ জারি করা হয়। কয়েক ধাপে জারি করা ওই আদেশের পর প্রার্থীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৮৩১ জন কাগজপত্র জমা দেন। ৫৫২ জন কাগজপত্র জমা দেননি। এ ছাড়া একজন প্রার্থী মারা গেছেন।

কাগজপত্র জমা দেওয়া প্রার্থীদের মধ্যে ১৩ হাজার ৭৪৮ জন নিয়োগপত্র পেয়েছেন। তাদের মধ্যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ১২ হাজার ৮৩০ জন চাকরিতে যোগদান করেন। ফলে নিয়োগপত্র হাতে পেয়েও ৯১৮ জন সহকারী শিক্ষক পদে যোগ দেননি। আর কাগজপত্র জমা না দেওয়া ৫৫৩ জনসহ মোট ১ হাজার ৪৭১ জন প্রার্থী চাকরিতে যোগ দেননি।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) আবদুর রহিম বলেন, অনেকে কাগজপত্র জমা দেননি এবং তারা চাকরিতে যোগদানের বিষয়ে কোনো আগ্রহ দেখাননি। আবার কেউ কেউ নিয়োগপত্র পেয়েও যোগ দেননি। তাদের হয়তো অন্যত্র চাকরি হয়েছে এবং সেটিকেই তারা বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। সব সরকারি নিয়োগেই এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

তিনি বলেন, ‘কিন্তু সহকারী শিক্ষক পদে ১ হাজার ৪৭১ জন যোগ না দেওয়ায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কারণ আমাদের এতবড় নিয়োগ প্রক্রিয়া বারবার চালানো কষ্টসাধ্য। এর সঙ্গে সরকারের যে বাড়তি খরচ, সে বিষয়টিও রয়েছে। পাশাপাশি পদ শূন্য থাকায় বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট পড়বে। আমরা শিগগির আরেকটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছি। সেটি হয়ে গেলে আর সংকট থাকবে না।’

বিজ্ঞাপন

এদিকে নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও ভেরিফিকেশনসহ বিভিন্ন ধাপের কারণে ৮৩ জন শেষ পর্যন্ত নিয়োগপত্র পাননি বলে অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে। যদিও বিভিন্ন পর্যায়ে যাচাই-বাছাই শেষে কিছু প্রার্থীকে ধাপে ধাপে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে, ওই ৮৩ জন শেষ পর্যন্ত নিয়োগ থেকে বঞ্চিতই রয়ে গেছেন।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD