Logo

বাউল সাধক কানাই দাস আর নেই, শোকের ছায়া সংগীতাঙ্গনে

profile picture
বিনোদন ডেস্ক
১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১৯:১৭
বাউল সাধক কানাই দাস আর নেই, শোকের ছায়া সংগীতাঙ্গনে
বাউল সাধক কানাই দাস | ফাইল ছবি

প্রখ্যাত বাউল সাধক ও শিল্পী কানাই দাস আর নেই। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার তারাপীঠে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভারতীয় খ্যাতনামা চিত্রগ্রাহক ও নির্মাতা রঞ্জন পালিত।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন এই বাউল সাধক। বিশেষ করে গত দুই মাস তিনি যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত ছিলেন। এর পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে ক্রনিক অ্যাজমা ও ডায়াবেটিসজনিত সমস্যাও তাকে কষ্ট দিচ্ছিল।

দৃষ্টিশক্তি না থাকলেও কানাই দাস বাউল সংগীত ও আধ্যাত্মিক সাধনায় নিজেকে সম্পূর্ণভাবে নিবেদন করেছিলেন। একতারা হাতে তিনি গ্রাম থেকে গ্রাম, মেলা ও আখড়ায় ঘুরে মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছেন মানবতা ও জীবনের গভীর দর্শন। ‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’ এবং ‘কে বলে মানুষ মরে, আমি বুঝলাম না ব্যাপার’—এর মতো অসংখ্য জনপ্রিয় গান তার কণ্ঠে নতুন মাত্রা পেয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তার গানে যেমন ছিল জীবনবোধ ও মানবতার গভীরতা, তেমনি ছিল আধ্যাত্মিক অনুসন্ধানের ছাপ। দেশ-বিদেশে বিভিন্ন মঞ্চে বাউল গান পরিবেশন করে তিনি বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। তার অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৯ সালে তিনি ‘সহজিয়া সম্মান’ লাভ করেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন লেখক উইলিয়াম ডালরিম্পলের ‘নাইন লাইভস’ গ্রন্থেও তার জীবন ও সংগীত নিয়ে একটি অধ্যায় স্থান পেয়েছে।

তার প্রয়াণে বাউল অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোক। জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী পান্থ কানাই সামাজিক মাধ্যমে শোক প্রকাশ করে লিখেছেন, কানাই দাসের কণ্ঠে ছিল মাটির টান আর সাধনায় ছিল আত্মার অনুসন্ধান। তিনি কেবল গান গাইতেন না, মানুষের হৃদয়ে ছুঁয়ে যেতেন ভালোবাসা, ভক্তি ও সত্যের বাণী দিয়ে। তার চলে যাওয়া সংগীতজগতে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করেছে।

বিজ্ঞাপন

ভক্তদের কাছে ‘কানাই বাবা’ নামে পরিচিত এই সাধক শুধু একজন শিল্পীই ছিলেন না, ছিলেন পথপ্রদর্শকও। বাহ্যিক দৃষ্টি না থাকলেও অন্তর্দৃষ্টির মাধ্যমে তিনি মানুষ ও জীবনের গভীর অর্থ অনুধাবন করেছিলেন। তার গান ও দর্শন আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে বলেই মনে করছেন অনুরাগীরা।

তার মৃত্যুতে বাউল সংগীতজগত এক গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশককে হারালেও, তার সুর, সাধনা ও দর্শন বেঁচে থাকবে মানুষের হৃদয়ে দীর্ঘদিন।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD