Logo

দুঃস্বপ্ন দেখে ঘোমটা পরে ওমর সানীর বাসায় হাজির মৌসুমী

profile picture
বিনোদন প্রতিবেদক
২ আগস্ট, ২০২৬, ১৭:৩৭
দুঃস্বপ্ন দেখে ঘোমটা পরে ওমর সানীর বাসায় হাজির মৌসুমী
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় তারকা দম্পতি মৌসুমী ও ওমর সানীর প্রেম, বিয়ে এবং বিবাহোত্তর সংবর্ধনা নিয়ে আজও দর্শকদের আগ্রহের কমতি নেই। নব্বইয়ের দশকের সবচেয়ে আলোচিত এই জুটির সম্পর্কের শুরু থেকে বিয়ের নানা স্মৃতি এখনও ভক্তদের কাছে রোমাঞ্চকর। সম্প্রতি সেই স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ওমর সানী তুলে ধরেছেন এমন একটি ঘটনা, যেখানে একটি দুঃস্বপ্ন দেখার পর ঘোমটা পরে তাঁর বাসায় ছুটে এসেছিলেন মৌসুমী।

বিজ্ঞাপন

ওমর সানীর ভাষ্য অনুযায়ী, একদিন মৌসুমী একটি অস্বস্তিকর স্বপ্ন দেখেছিলেন, যেখানে তাঁকে নিয়ে কোনো অমঙ্গল ঘটার আশঙ্কা অনুভব করেন। সেই উদ্বেগ থেকেই এফডিসিতে যাওয়ার আগে ঘোমটা পরে সরাসরি ওমর সানীর বাসায় যান তিনি। হঠাৎ এভাবে মৌসুমীকে নিজের বাড়িতে দেখে বিস্মিত হলেও সেই মুহূর্তে ওমর সানী উপলব্ধি করেছিলেন, তাঁদের সম্পর্ক আর শুধু সহশিল্পীর সীমায় নেই, বরং তা গভীর ভালোবাসায় রূপ নিয়েছে।

এই তারকা জুটির প্রথম পরিচয় হয়েছিল ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ চলচ্চিত্রের মহরতে। তখন ওমর সানী চলচ্চিত্রে নিজের অবস্থান তৈরি করতে শুরু করেছেন, আর মৌসুমী অভিনয়জীবনের একেবারে শুরুতে। পরবর্তীতে পরিচালক শেখ নজরুল ইসলাম একটি নতুন ছবির প্রস্তাব নিয়ে ওমর সানীকে সঙ্গে করে মৌসুমীদের মোহাম্মদপুরের বাসায় নিয়ে যান। সেখানেই প্রথম তাঁদের কথা হয়। যদিও সে সময় ব্যস্ততার কারণে সেই ছবিতে অভিনয় করতে পারেননি মৌসুমী।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ মুক্তির পর ‘দোলা’ ছবিতে প্রথমবারের মতো জুটি বাঁধেন মৌসুমী ও ওমর সানী। ছবির শুটিংয়ের সময় তাঁদের মধ্যে কিছু ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হলেও ধীরে ধীরে সেই দূরত্ব কমে যায়। একসময় পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালো লাগা ভালোবাসায় রূপ নেয়।

বিজ্ঞাপন

পরে ‘আত্ম অহংকার’ ছবির শুটিংয়ে সিলেটের জৈন্তাপুরে অবস্থানকালে তাঁদের সম্পর্ক আরও গভীর হয়। মৌসুমীর জন্মদিন উপলক্ষে ওমর সানী নিজের গলায় থাকা মায়ের দেওয়া একটি স্বর্ণের চেইন উপহার দেন। এই উপহার মৌসুমীকেও আবেগাপ্লুত করেছিল এবং তাঁদের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে।

ভালোবাসার বিষয়টি একসময় নিজের পরিবারের কাছেও জানান ওমর সানী। এমনকি একটি সাক্ষাৎকারে প্রকাশ্যেই তিনি বলেন, তিনি মৌসুমীকে ভালোবাসেন। এই মন্তব্য পড়ে মৌসুমী কিছুটা বিস্মিত হলেও ওমর সানী নিজের অনুভূতি থেকে সরে আসেননি।

এদিকে দুই পরিবারের মধ্যেও ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। ওমর সানীর মা ও মৌসুমীর নানির আন্তরিক সম্পর্ক একসময় দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের পথ সহজ করে দেয়। যদিও শুরুতে মৌসুমীর মা চলচ্চিত্র অঙ্গনের কারও সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দিতে আগ্রহী ছিলেন না। পরে পরিবারের সবাই এ সম্পর্কে সম্মতি দেন।

বিজ্ঞাপন

১৯৯৫ সালের ৪ মার্চ একদিন মৌসুমীর নানি তাঁকে নিয়ে সরাসরি ওমর সানীদের বাসায় যান এবং সেদিনই কাজি ডেকে তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন করা হয়। সে সময় বিষয়টি শুধুমাত্র দুই পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্য এবং কয়েকজন কাছের মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছিল। অভিনয়জীবনের কথা বিবেচনা করে তাঁরা বিয়ের খবর প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নেন।

কয়েক মাস পর জানা যায়, তাঁদের প্রথম সন্তান পৃথিবীতে আসছে। এরপর আর বিয়ের বিষয়টি গোপন না রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহোত্তর সংবর্ধনার আয়োজন করেন তাঁরা।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

১৯৯৬ সালের ২ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয় সেই জাঁকজমকপূর্ণ সংবর্ধনা, যা সে সময় ঢাকার অন্যতম আলোচিত সামাজিক আয়োজন ছিল। মৌসুমীর ইচ্ছা অনুযায়ী বরযাত্রী হয়ে ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে অনুষ্ঠানে যান ওমর সানী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন চলচ্চিত্র অঙ্গনের অনেক পরিচিত মুখ। পেছনে ছিল ১১৭টি গাড়ির বিশাল বহর। মহাখালী ডিওএইচএস থেকে তৎকালীন শেরাটন হোটেল পর্যন্ত দীর্ঘ গাড়ির সারি রাজধানীর সড়কে সৃষ্টি করেছিল বিরল দৃশ্য, যা আজও অনেকের স্মৃতিতে অমলিন।

বিজ্ঞাপন

দীর্ঘ তিন দশক পেরিয়েও মৌসুমী ও ওমর সানীর দাম্পত্য জীবন এবং তাঁদের প্রেমের গল্প এখনও দর্শক-ভক্তদের কাছে অনুপ্রেরণা ও আলোচনার বিষয় হয়ে রয়েছে। ব্যক্তিগত জীবনের নানা স্মৃতি ভাগাভাগি করে এই তারকা দম্পতি এখনও ভক্তদের ভালোবাসায় সিক্ত হচ্ছেন।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD