যৌন কেলেঙ্কারি মামলায় ৯৮ কোটি দাবি, ৫ কোটি পেলেন ব্লেক লাইভলি

হলিউড অভিনেত্রী ব্লেক লাইভলি অভিনেতা ও পরিচালক জাস্টিন বালডোনির বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে প্রায় ৯৮ কোটি টাকা সমপরিমাণ অর্থ দাবি করেছিলেন। তবে আদালতের রায়ে সেই দাবির তুলনায় অনেক কম অর্থ পেয়েছেন তিনি। আইনি খরচ বাবদ অভিনেত্রীকে প্রায় ৪ লাখ ৭ হাজার ডলার দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৫ কোটি টাকার কিছু বেশি।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (২৬ আগস্ট) বিচারক লুইস লিমান ব্লেক লাইভলির পক্ষে আইনি ফি হিসেবে ৩ লাখ ৬৩ হাজার ডলার এবং আদালত-সংক্রান্ত খরচ হিসেবে আরও ৪৪ হাজার ডলার অনুমোদন করেন। সব মিলিয়ে অভিনেত্রী প্রায় ৪ লাখ ৭ হাজার ডলার পাচ্ছেন।
তবে আদালতের কাছে ব্লেক লাইভলি আইনি খরচ বাবদ ৭৫ লাখ ডলার বা ৭ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার এবং আদালত-সংক্রান্ত ব্যয় হিসেবে আরও ৫ লাখ ৪০ হাজার ডলার দাবি করেছিলেন। সব মিলিয়ে তার মোট দাবি ছিল প্রায় ৮ মিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯৮ কোটি ৬২ লাখ টাকার সমান।
‘ইট এন্ডস উইথ আস’ সিনেমাকে কেন্দ্র করে ব্লেক লাইভলি ও অভিনেতা-পরিচালক জাস্টিন বালডোনির মধ্যে শুরু হওয়া আইনি দ্বন্দ্ব প্রায় দেড় বছর ধরে আলোচনায় ছিল। চলতি বছরের মে মাসে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হওয়ায় নির্ধারিত ফেডারেল আদালতের বিচার আর এগোয়নি। তবে বালডোনির করা ব্যর্থ মানহানির মামলার বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে ব্লেকের যে আইনি খরচ হয়েছে, তা নিয়ে আদালতে শুনানি চলছিল।
বিজ্ঞাপন
রায়ে বিচারক বলেন, মামলার গুরুত্ব ও জটিলতার কারণে ব্লেক লাইভলির আইনজীবীদের নির্ধারিত পারিশ্রমিক অযৌক্তিক ছিল না। তবে তিনি যে পরিমাণ সময়ের জন্য আইনি খরচ ফেরত চেয়েছিলেন, তার একটি অংশকে ‘অযৌক্তিক’ বলে উল্লেখ করেন আদালত।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
জাস্টিন বালডোনির আইনজীবী ব্রায়ান ফ্রিডম্যান আদালতের এই সিদ্ধান্তকে নিজের মক্কেলের জন্য ‘উল্লেখযোগ্য বিজয়’ হিসেবে দেখেছেন। তার দাবি, ব্লেক লাইভলি যে অর্থ চেয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত তার মাত্র প্রায় ৫ শতাংশ পেয়েছেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে ব্লেক লাইভলির আইনজীবীদের দাবি, আদালতের এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে প্রতিশোধমূলক মামলা দায়েরেরও আইনি পরিণতি রয়েছে। তাদের ভাষ্য, ব্লেকের এই লড়াই অর্থের জন্য নয়, বরং জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য ছিল।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ব্লেক লাইভলি অভিযোগ করেন, ‘ইট এন্ডস উইথ আস’ সিনেমার শুটিং সেটে যৌন হয়রানির বিষয়ে অভিযোগ তোলার পর জাস্টিন বালডোনি ও তার প্রতিষ্ঠান তার বিরুদ্ধে অনলাইন প্রচারণা চালিয়েছিল।
এরপর জাস্টিন বালডোনি পাল্টা মানহানির মামলা করেন। তার অভিযোগ ছিল, ব্লেক লাইভলি ও তার স্বামী রায়ান রেনল্ডস মিথ্যা অভিযোগ তৈরি করে সিনেমাটির সৃজনশীল নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। বালডোনির ওই মামলাকে ঘিরেই দুই তারকার দীর্ঘ আইনি দ্বন্দ্ব হলিউডে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
বিজ্ঞাপন








