পূজায় সায়ানের নতুন গান, রাষ্ট্রের কাছে নিরাপত্তার দাবি

গানকে শুধু বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে দেখেন না ফারজানা ওয়াহিদ সায়ান। তার গানে উঠে আসে মানুষ, জীবন, সমাজ ও দেশের নানা প্রসঙ্গ। আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে এবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে তার নতুন গান ‘এই মাটিতে সমান সব’।
বিজ্ঞাপন
২০২১ সালে গানটি তৈরি করেছিলেন সায়ান। তবে তখন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। আগামী ১৪ অক্টোবর পূর্ণাঙ্গ আয়োজনে গানটি প্রকাশ করবেন তিনি। বরাবরের মতো গানটির কথা ও সুর করেছেন সায়ান। সংগীতায়োজন করেছেন শফিকুজ্জামান শাওন এবং ভিডিও নির্মাণ করেছেন সুরঞ্জিত কুমার রক্ষিত।
গানটি প্রকাশের আগে এর ভাবনা ও প্রেক্ষাপট নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন সায়ান। ধর্মীয় পরিচয় ও মানুষের সমতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “এটা ধর্ম নিয়েই গান। আমি মুসলমান পরিবারে জন্মেছি। আমার সেই পরিচয়কে আমি কখনোই আড়াল করতে চাই না। ধর্মকে আমি সবচেয়ে বেশি শিখেছি, বুঝেছি আমার মা আর নানির কাছে। তারা রোজার সময় রোজা করতেন, আর পূজার সময় বেশি করে আমাদের ছোটদের মনে করাতেন, ‘খবরদার, ভুলেও কখনো এটা ভেবো না, মুসলমান বলে তুমি হিন্দুর চেয়ে বড় কিংবা উত্তম!’ তারা শিখিয়েছে, শুধু হিন্দু নয়, আর যে কোনো ধর্মের মানুষের বেলায়ও এ কথাই প্রযোজ্য! অনেকেই ধর্মের কথা বলেছেন। এখনো পর্যন্ত আমার মা-নানির কথাই আমার প্রাণকে সবচেয়ে বেশি ছুঁয়েছে। যে ধর্মকথা আর কাউকে ছোট করাতে অধিক সময় ব্যয় করে, সেই ধর্মকথা তাই আমার প্রাণকে টানে না।”
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশে মুসলমানের সংখ্যা বেশি হলেও সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে কেউ অন্যের চেয়ে শ্রেষ্ঠ হয়ে যায় না বলে মনে করেন সায়ান। তিনি বলেন, ‘সংখ্যায় বেশি হলেই কেউ কারোর চেয়ে বড় হয় না, কারোর সেই মাটিতে হক বেশি হয় না, এটাই আমার সহজ সরল বিশ্বাস, অবস্থান এবং মূল্যবোধ। মাটির মধ্যে কারোর ধর্ম পরিচয় লেখা থাকে না। মানুষ আসলে স্রেফ একজন মানুষ হয়েই জন্মায়, তার বেশি নয়। তারপরে সে আবিস্কার করে, তার কোথায় জন্ম, কোন দেশে, কোন সম্প্রদায়ে, কোন ধর্মে এবং সে অঞ্চলে তারা কি সংখ্যায় বেশি না কম। এই বেশি-কম দিয়ে মাটির পরিচয়টাই যে মানুষ নির্ধারণ করে দেয়, সেটা আমার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। আমার কাছে তাই মুসলমানের মাটি বা হিন্দুর মাটি বা খ্রীষ্টানের মাটি বলে কিছু নেই। মাটি হলো মাটি। আর মানুষ হলো মানুষ। আমি ঘটনাচক্রে কোনো একটা মাটিতে, কোনো এক দল মানুষের সমাজের ভেতরে জন্মে গিয়েছি।’
বিজ্ঞাপন
ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে হেয় বা আক্রমণ না করার আহ্বান জানিয়ে সায়ান বলেন, ‘ধর্মের ভিত্তিতে কাউকে আক্রমণ করা যাবে না। কাউকে অপমান, অসম্মান, ছোট করা যাবে না। কাউকে দুঃখ দেয়া যাবে না। কার ধর্ম কী, তা সে কতটুকু মানবে, নাকি মানবে না, এটা তার ব্যাপার।’
নিজের বক্তব্যের শেষ দিকে রাষ্ট্রের কাছেও কয়েকটি প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন এই শিল্পী। তার ভাষায়, ‘রাষ্ট্রের কাছে এটাই প্রত্যাশা, সে যে কোনো ব্যক্তির ধর্ম মানার কিংবা না মানার অধিকারকে নিশ্চিত করবে। যারা মানবেন, যা কিছু আয়োজন করবেন, তার জন্য সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। রাষ্ট্রের কাছে নিরাপত্তা চাই। সম্প্রীতি নিশ্চিত করার জন্য সকল পদক্ষেপে রাষ্ট্রকে উৎসাহী ভূমিকায় চাই। বরং যাকে আমরা সংখ্যালঘু ভাবছি (যদিও এটা কোন মানুষের পরিচয় হতে পারে না), তার প্রতি যত্ন বেশি হলেই খুশি হবো। কেননা সমাজটাই এমন, এখানে মানুষ একটা মাত্র মানুষ হয়ে জন্মায়, তারপর সংখ্যার জোরে, যারা সংখ্যায় কম, তাদের ওপর দমন-পীড়ন করে। এমনটা যে ঘটতে পারে, এটা ধরে নিয়েই, যে সংখ্যায় কম, আমি তার প্রতি রাষ্ট্রকে আরো অধিক যত্নবান হবার দিকে এগিয়ে নিতে চাই। তার দায়িত্ব সরকারেরই। আর নাগরিক হিসাবে আমারও।’








