১০০ কেন, বিজয়কে হাজারবার বিয়ের প্রস্তাব দেব: রাশমিকা

বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে দক্ষিণি অভিনেতা বিজয় দেবেরাকোন্ডার একটি মন্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। বিজয় জানিয়েছিলেন, বিয়েতে রাজি হওয়ার আগে রাশমিকা মান্দানাকে নাকি একই কথা প্রায় ১০০ বার বলতে হয়েছিল তাঁকে। বিষয়টি নিয়ে নেটিজেনদের একাংশ বিজয়ের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুললে এবার মুখ খুলেছেন রাশমিকা। স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তাঁদের সম্পর্ক ও বিয়ের সিদ্ধান্তকে যেভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে, বাস্তবতা তেমন নয়।
বিজ্ঞাপন
সম্প্রতি করণ জোহরের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘কফি উইথ করণ’-এর নবম মৌসুমে হাজির হন বিজয় ও রাশমিকা। সেখানে তাঁদের বিয়ের প্রস্তাবের গল্প জানতে চান সঞ্চালক। রাশমিকা জানান, একসময় তিনি বিজয়কে বিয়ের কথা বলেছিলেন। জবাবে বিজয় মজা করে তাঁকে বলেছিলেন, একই কথা নাকি ১০০ বার বলতে হবে। এরপর প্রায় এক বছর ধরে তাঁদের মধ্যে বিয়ে নিয়ে আলোচনা চলেছিল।
বিজয়ের এই মন্তব্য সামনে আসার পর সামাজিক মাধ্যমে কেউ কেউ সেটিকে স্ত্রীর প্রতি অবজ্ঞা হিসেবেও দেখেন। বিতর্কের মুখে ইনস্টাগ্রামে দীর্ঘ বক্তব্য দিয়ে নিজেদের সম্পর্কের প্রকৃত সমীকরণ তুলে ধরেন রাশমিকা।
রাশমিকা জানান, তাঁদের কথোপকথনের মূল বিষয় না বুঝেই অনেকে শুধু ১০০ বার বলা কিংবা এক বছর সময় নেওয়ার হিসাব নিয়ে আলোচনা করছেন।
বিজ্ঞাপন
অভিনেত্রী লেখেন, ‘প্রথমেই বলে রাখি, বিষয়টি কখনোই কতবার বলা হয়েছিল কিংবা পুরো এক বছর সময় নেওয়া নিয়ে ছিল না। আপনারা সেখানেই আটকে গেছেন। হ্যাঁ, এমন কথোপকথন হয়েছিল। কিন্তু আমাদের কেউই জাঁকজমকপূর্ণ কোনো প্রস্তাবের অপেক্ষায় ছিলাম না।’
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একে অপরকে ভালোভাবে বোঝার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। রাশমিকার ভাষায়, জীবনের উত্থান-পতন, আনন্দ ও চাপের মধ্যেও তাঁরা দুজন পরস্পরকে বোঝার যথেষ্ট সময় ও সুযোগ নিয়েছেন। তাঁরা সত্যিই বিয়ে করতে চান কি না এবং সেটি করার উপযুক্ত সময় কি না, তা নিশ্চিত হওয়াই ছিল মূল বিষয়।
শেষ পর্যন্ত দুজন সম্মিলিতভাবেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জানিয়ে রাশমিকা লেখেন, ‘আর আমরা তা-ই করেছি। আমরা একে অপরকেই বেছে নিয়েছি। আমি পুরোপুরি আবেগ দিয়ে ভাবি, আর বিজয় চিন্তাভাবনা করে সিদ্ধান্ত নেয়। আমাদের জীবনে একে অপরের এই গুণগুলো প্রয়োজন।’
বিজ্ঞাপন
বিজয়ের প্রতি নিজের ভালোবাসার কথা জানিয়ে অভিনেত্রী বলেন, তাঁদের কাছে বিয়ে কখনোই শুধু প্রস্তাব দেওয়া, এক হাঁটু গেড়ে বসা কিংবা আঙুলে আংটি পরানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। তাঁর মতে, এসব বাহ্যিক আয়োজনের চেয়ে একসঙ্গে জীবন ও ভবিষ্যৎ গড়ে তোলাই বিয়ের প্রকৃত অর্থ।
রাশমিকা লেখেন, ‘এমন কাউকে খুঁজে নিন, যার জন্য আপনি যেকোনো পর্যায়ে যেতে পারবেন এবং যে আপনার জন্যও একই কাজ করবে। আর হ্যাঁ, আমি আমার মানুষটিকে নিয়ে ভীষণ মুগ্ধ। এটা কখন থেকে খারাপ হয়ে গেল?’
বিজয়কে নিজের জীবনের দীর্ঘ পথচলার সঙ্গী হিসেবে উল্লেখ করে রাশমিকা আরও লেখেন, ‘আমি যাকে বিয়ে করছি, তার প্রেমে যদি গভীরভাবে না-ই পড়ি, তাহলে তাকে বিয়ে করব কেন? তিনি সারা জীবনের সঙ্গী হবেন। সাধারণ ও অসাধারণ প্রতিটি দিনের বন্ধু, আমার সন্তানের বাবা এবং সেই মানুষ, যার সঙ্গে আমি বৃদ্ধ হতে চাই।’
বিজ্ঞাপন
সমালোচকদের উদ্দেশে নিজের অবস্থান আরও স্পষ্ট করে তিনি বলেন, এমন একজন মানুষ খুঁজে নেওয়া উচিত, যিনি এত সুন্দরভাবে ভালোবাসবেন যে বিয়ের পরও তাঁকে আবার বিয়ে করতে ইচ্ছা করবে।
রাশমিকার ভাষায়, ‘আমি হাজারবারও একই কাজ করব। সেখানে ১০০ বার কিছুই নয়।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরামর্শ ও সমালোচনা প্রসঙ্গেও কথা বলেছেন রাশমিকা। তাঁর অভিযোগ, তাঁদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে অসংখ্য অপ্রয়োজনীয় মতামত, মন্তব্য ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরামর্শ এসেছে। যেভাবে তাঁদের আক্রমণ করা হয়েছে, তা তাঁকে বিস্মিত করেছে বলেও জানান অভিনেত্রী।
বিজ্ঞাপন
তবে এসব সমালোচনা নিয়ে উদ্বিগ্ন না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে রাশমিকা লেখেন, ‘আমাদের নিয়ে চিন্তা করবেন না। আমি জীবনে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সুখী। আমার মুখে, বিয়ের পরের আনন্দে, আমার অভিনয়ে, সিনেমায় এবং জীবনযাপনে সেই সুখ দেখতে পাবেন বলে আশা করি। আমি সুখী, তৃপ্ত এবং নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি।’
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিয়ে করেন বিজয় দেবেরাকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানা। এর আগে ‘গীতা গোবিন্দম’ ও ‘ডিয়ার কমরেড’ সিনেমায় একসঙ্গে অভিনয় করেছেন তাঁরা। সম্প্রতি ‘রানাবালি’ সিনেমাতেও আবার একসঙ্গে দেখা গেছে এই জুটিকে।








