Logo

মিশর থেকে দেশে ফিরলেন ভূমধ্যসাগরে উদ্ধার হওয়া ৫৮ বাংলাদেশি

profile picture
জনবাণী ডেস্ক
১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১৯:২৩
মিশর থেকে দেশে ফিরলেন ভূমধ্যসাগরে উদ্ধার হওয়া ৫৮ বাংলাদেশি
ছবি: সংগৃহীত

মানবপাচারকারীদের প্রলোভনে পড়ে লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার পথে উদ্ধার হওয়া ৫৮ বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। মিশরের পোর্টসাইদে আটক এসব বাংলাদেশিকে তিন ধাপে গত ৪, ৬ ও ১৩ অক্টোবর দেশে প্রত্যাবাসন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে তাদের দেশে ফেরানোর কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মিশরে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম উইং জানিয়েছে, মানবপাচারকারীদের প্রলোভনে পড়ে এসব বাংলাদেশি লিবিয়ার তবরুক থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অনিয়মিত পথে ইউরোপে প্রবেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিলেন। সমুদ্রপথে বিপদে পড়ার পর তাদের উদ্ধার করে মিশরের পোর্টসাইদে নিয়ে আসা হয়।

উদ্ধার হওয়া ৫৮ বাংলাদেশির মধ্যে ৫৫ জনকে ‘কিংস্টন’ নামের একটি বাণিজ্যিক জাহাজ উদ্ধার করে। বাকি তিনজনকে উদ্ধার করে ‘এমএসসি ভার্জিনিয়া’ নামের আরেকটি বাণিজ্যিক জাহাজ। পরে তাদের মিশরের পোর্টসাইদে রাখা হয়।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের শারীরিক ও সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ, সমুদ্রযাত্রা ও উদ্ধারের ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ও কনস্যুলার সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে গত ৩ অক্টোবর মিশরের পোর্টসাইদ কারাগার পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।

দূতাবাসের উদ্যোগে মিশরীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) অর্থায়নে বিমান টিকিটের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

প্রত্যাবাসনের প্রথম ধাপে গত ৪ অক্টোবর ছয়জন বাংলাদেশে ফেরেন। এরপর ৬ অক্টোবর আরও ১১ জন দেশে ফেরেন। সর্বশেষ ১৩ অক্টোবর অবশিষ্ট ৪১ জনকে ফিরিয়ে আনা হয়। এভাবে তিন ধাপে মোট ৫৮ বাংলাদেশির প্রত্যাবাসন সম্পন্ন হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

দূতাবাস আরও জানায়, ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অনিয়মিতভাবে ইউরোপে প্রবেশের ঝুঁকি সম্পর্কে বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মানবপাচারকারী ও অবৈধ অভিবাসনে সহায়তাকারী চক্রের প্রলোভন থেকে নাগরিকদের বিরত রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

উন্নত জীবনের আশায় মানবপাচারকারী চক্রের প্রলোভনে পড়ে অনেক বাংলাদেশি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ ধরনের যাত্রায় উত্তাল সমুদ্র, নৌযানের অনিরাপত্তা, খাবার ও পানির সংকট এবং পাচারকারীদের প্রতারণার কারণে প্রাণহানির আশঙ্কা থাকে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রলোভননির্ভর ও অনিয়মিত পথ এড়িয়ে বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি। এতে মানবপাচার ও প্রতারণার শিকার হওয়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

বিজ্ঞাপন

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD