Logo

ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে সব শিক্ষার্থীর জন্য বাধ্যতামূলক হচ্ছে কারিগরি শিক্ষা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১০ জুন, ২০২৬, ১৮:২১
ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে সব শিক্ষার্থীর জন্য বাধ্যতামূলক হচ্ছে কারিগরি শিক্ষা
ছবি: সংগৃহীত

ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে সব শিক্ষার্থীর জন্য কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও যুগোপযোগী করতে বিশেষজ্ঞ ও পেশাজীবীদের মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংযোজন, বিয়োজন ও সংস্কার করা হবে।

বিজ্ঞাপন

সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহদী আমিন জানান, নতুন শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিক শিক্ষা, পারিবারিক মূল্যবোধ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিল্পখাতের সঙ্গে শিক্ষার সংযোগকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের জন্য ক্রীড়া শিক্ষা নতুন বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পাশাপাশি সংস্কৃতি শিক্ষা এবং ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ নামে একটি বিষয় চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ, মূল্যবোধ ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার বিভিন্ন দিক শেখানো হবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা যেন শুধু সনদনির্ভর না হয়ে বাস্তব জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারে, সে লক্ষ্যেই শিক্ষাব্যবস্থার পুনর্গঠন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তাদের সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী ক্ষমতা, নেতৃত্বগুণ, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও খেলাধুলায় অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো হবে।

উপদেষ্টা আরও বলেন, নতুন পাঠ্যক্রমে ক্রীড়া, সংস্কৃতি, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নাগরিক দায়িত্ববোধ, সামাজিক আচরণ ও জীবনঘনিষ্ঠ দক্ষতা গড়ে তোলা হবে।

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সক্ষমতা বাড়াতে তৃতীয় ভাষা শিক্ষার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। বিদ্যমান শিক্ষাকাঠামোর মধ্যেই এ বিষয়ে বিস্তৃত অধ্যায় সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, সম্পূর্ণ নতুন পাঠ্যক্রম চালু করা সময়সাপেক্ষ একটি প্রক্রিয়া। দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকার বই প্রণয়ন ও মুদ্রণের জন্য সীমিত সময় পেয়েছে। ফলে সব পরিবর্তন একসঙ্গে বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। তবে আগামী বছর সংস্কার কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হবে।

তিনি বলেন, বাস্তবতাকে বিবেচনায় রেখেই ধাপে ধাপে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও আধুনিক, দক্ষতাভিত্তিক ও সময়োপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

বিজ্ঞাপন

শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়েও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য বিপুলসংখ্যক ট্যাব সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের জন্য প্রায় ১৪ লাখ ট্যাব প্রয়োজন হবে এবং আগামী অর্থবছরের বাজেটে এ বিষয়ে পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

কারিগরি শিক্ষার প্রসারে জাতীয় পর্যায়ে স্কিলস কম্পিটিশন, ক্যারিয়ার ফেয়ার এবং সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। তার ভাষ্য, কারিগরি শিক্ষাকে মূলধারার মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষাধারা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেই কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতে পারে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD