পর্তুগালে নাগরিকত্ব আইন কঠোর করার উদ্যোগে আদালতের বাধা

পর্তুগালে নাগরিকত্ব পাওয়ার শর্ত কঠোর করতে সম্প্রতি পাস হওয়া একটি আইনের একাধিক ধারা বাতিল করেছে দেশটির সাংবিধানিক আদালত। আদালতের এই সিদ্ধান্তে আইনটি কার্যত স্থগিত হয়ে গেছে এবং সংশোধনের জন্য আবার পার্লামেন্টে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
সোমবার দেওয়া রায়ে আদালত জানায়, নাগরিকত্ব সংক্রান্ত নতুন আইনের কিছু বিধান পর্তুগালের সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে প্রেসিডেন্টকে সংশ্লিষ্ট ডিক্রিতে ভেটো দিতে হবে এবং সংসদে নতুন করে সংশোধনী এনে ভোটাভুটির প্রয়োজন হবে।
রায়ে আদালত বিশেষভাবে আপত্তি জানিয়েছে এমন একটি ধারায়, যেখানে দুই বছর বা তার বেশি কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ বন্ধ করার কথা বলা হয়েছিল। বিচারকদের মতে, এটি নাগরিকত্বের মৌলিক অধিকারের ওপর অতিরিক্ত ও অসমানুপাতিক সীমাবদ্ধতা আরোপ করে।
বিজ্ঞাপন
এছাড়া গত ১০ বছরে গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগের ভিত্তিতে কারো নাগরিকত্ব বাতিলের বিধানকেও সংবিধানবিরোধী ঘোষণা করা হয়েছে। আদালতের ভাষায়, এই ব্যবস্থা জন্মসূত্রে নাগরিক ও পরবর্তীতে নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করে, যা সংবিধানে স্বীকৃত সমতার নীতির পরিপন্থী।
তবে আদালত স্পষ্ট করেছে, আইনটি যদি ভবিষ্যতে সংশোধনের মাধ্যমে কার্যকরও হয়, তাহলে তা বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন নাগরিকত্ব আবেদনগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। নতুন নিয়ম কেবল আইন কার্যকর হওয়ার পর জমা দেওয়া আবেদনেই প্রয়োগ করা যেতে পারে।
ডানপন্থি জোট সরকার ও অতি-ডানপন্থি দলের সমর্থনে গত অক্টোবরের শেষ দিকে এই আইনটি পার্লামেন্টে পাস হয়। প্রস্তাবিত আইনে নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় বসবাসের সময়সীমা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছিল। এতে পর্তুগিজ ভাষাভাষী দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকদের জন্য ন্যূনতম বসবাসের শর্ত সাত বছর এবং অন্যান্য দেশের নাগরিকদের জন্য সর্বোচ্চ ১০ বছর নির্ধারণের প্রস্তাব ছিল।
বিজ্ঞাপন
আইনটিতে বিদেশি বাবা-মায়ের ঘরে জন্ম নেওয়া শিশুদের নাগরিকত্ব পাওয়ার নিয়মও আরও কঠোর করা হয়। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, সন্তানের নাগরিকত্বের জন্য বাবা-মাকে অন্তত পাঁচ বছর বৈধভাবে পর্তুগালে বসবাস করতে হতো, যেখানে আগে এক বছর যেকোনো প্রশাসনিক অবস্থায় থাকলেই শর্ত পূরণ হতো। পাশাপাশি ভাষাজ্ঞান ও সামাজিক একীভূতকরণের শর্ত জোরদারের কথাও ছিল।
আরও পড়ুন: তাইওয়ানে ৫.১ মাত্রার ভূমিকম্প
এছাড়া মধ্যযুগে পর্তুগাল থেকে বিতাড়িত সেফারদি ইহুদিদের বংশধরদের জন্য ২০১৫ সাল থেকে চালু থাকা বিশেষ নাগরিকত্ব সুবিধা বাতিলের বিষয়টিও এই আইনের অংশ ছিল।
বিজ্ঞাপন
প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টেনেগ্রোর নেতৃত্বাধীন সরকার গত মে মাসের নির্বাচনে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই অভিবাসন নীতি কঠোর করার পথে হাঁটছে। এর আগেও পারিবারিক পুনর্মিলন সীমিত করার একটি আইন আদালতে বাতিল হয়ে সংশোধনের নির্দেশ পায়।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ পর্তুগালে বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫ লাখ ৫৫ হাজারে, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৫ শতাংশ। অভিবাসীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় বিষয়টি দেশটির রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে।








