ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার শঙ্কায় সব ফ্রন্টে প্রস্তুত ইসরায়েল

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলার কারণে তেহরান থেকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণের আশঙ্কায় সব ফ্রন্টে প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। আইডিএফের উত্তর কমান্ডের প্রধান মেজর জেনারেল রাফি মিলো চ্যানেল ১২ নিউজকে জানিয়েছেন, “আমরা জানি না পরিস্থিতি কোন দিকে এগোচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র পারস্য উপসাগরসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্যে শক্তি জড়ো করছে।”
বিজ্ঞাপন
মিলো আরও বলেন, “যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালায়, আমাদের দেশে তা প্রভাব ফেলতে পারে। হিজবুল্লাহ বা অন্য কোনো গোষ্ঠী কোনো বড় সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে, তাই আমরা উচ্চ সতর্কতায় রয়েছি। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী রাখা হয়েছে এবং পাল্টা আক্রমণেরও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।”
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার ইরানকে সতর্ক করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের হত্যা বা বন্দীদের গণহত্যা হলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে। সম্প্রতি এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “আমরা প্রয়োজন হলে যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছি, যদিও হয়তো ব্যবহার করতে হবে না।”
বিজ্ঞাপন
মার্কিন নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন বিমানবাহী রণতরী ভারত মহাসাগরে অবস্থান করছে। অন্যদিকে, শুক্রবার এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কোনো হামলা হলে তা ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
সম্ভাব্য উত্তেজনার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে বেশ কিছু বিমান সংস্থা ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করেছে। কেএলএম ডাচ এয়ারলাইনস তেল আবিব, দুবাই, দাম্মাম ও রিয়াদের ফ্লাইট অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে। ফরাসি এয়ার ফ্রান্স কিছু রুট পুনরায় চালু করেছে।
ইসরায়েলের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষও সতর্ক রয়েছে। চ্যানেল ১২-এর হাতে পাওয়া চিঠিতে বলা হয়েছে, “নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও গতিশীল। প্রয়োজনে আকাশসীমা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
বিজ্ঞাপন
বর্তমানে বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর স্বাভাবিকভাবে খোলা রয়েছে, তবে আবহাওয়াজনিত কারণে যুক্তরাষ্ট্রগামী কিছু ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
সূত্র: এএফপি








