ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে ‘নির্ভুল’ সামরিক হামলার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র বিবেচনা করছে—এমন তথ্য জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য এই হামলা চলতি সপ্তাহেই হতে পারে, যদিও সময়সূচি পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল।
বিজ্ঞাপন
সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়, মার্কিন প্রশাসনের ভেতরে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে, তবে ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা প্রতিক্রিয়ার মাত্রা নিয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। ইরানে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ দমনকে ঘিরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও এই বিবেচনায় ভূমিকা রাখছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে উত্তেজনা প্রশমনের বার্তা এলেও সাবেক কিছু মার্কিন কর্মকর্তা মনে করছেন, তা কেবল সাময়িক বিরতি হতে পারে। তাদের দাবি, তেহরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে ওয়াশিংটনের কৌশলগত হিসাব এখনো শেষ হয়নি।
বিজ্ঞাপন
মার্কিন সামরিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত যুদ্ধবিমান, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও নৌ-সম্পদ মোতায়েন করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ বিমানবাহী রণতরী অঞ্চলে অবস্থান করছে, যেখানে আধুনিক যুদ্ধবিমান ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সক্ষমতা রয়েছে।
অন্যদিকে, উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ তাদের আকাশসীমা সামরিক অভিযানে ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কায় সৌদি আরব, কাতার ও ওমানসহ কয়েকটি দেশ প্রকাশ্যে সংঘাত এড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছে।
আরও পড়ুন: ভূমিধসে ইন্দোনেশিয়ায় নিহত ২৩, নিখোঁজ ৪২
বিজ্ঞাপন
ইরানি কর্মকর্তারাও সতর্ক করে বলেছেন, তাদের বিরুদ্ধে হামলা হলে তা বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি কিংবা গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট—বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি—নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।
আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল। সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ, কূটনৈতিক চাপ এবং আঞ্চলিক শক্তির অবস্থান—সবকিছু মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টির ঝুঁকি বাড়ছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই








