কঙ্গোতে খনি ধসে দুই শতাধিক মানুষের প্রাণহানি

মধ্য আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের পূর্বাঞ্চলে একটি কোলটান খনিতে ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনায় দুই শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির খনি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে প্রায় ৭০ জন শিশু রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, টানা ভারী বৃষ্টিপাতের পর পূর্বাঞ্চলের নর্থ কিভু প্রদেশের রুবায়া এলাকার একটি কোলটান খনিতে হঠাৎ করে মাটি ধসে পড়ে। ওই সময় খনির ভেতরে ও আশপাশে অনেক শ্রমিক কাজ করছিলেন। হঠাৎ ধসে পড়া মাটির নিচে তারা মুহূর্তের মধ্যেই চাপা পড়ে যান।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় উদ্ধারকারীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে বিপুলসংখ্যক মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে নিকটবর্তী শহর গোমার বিভিন্ন হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে, যেখানে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
তবে এ ঘটনায় ভিন্ন দাবি করেছে খনি এলাকা নিয়ন্ত্রণকারী এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠী। সংগঠনটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দাবি করেন, এটি কোনো ভূমিধস নয়, বরং বোমা হামলার ঘটনা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় মাত্র পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
অন্যদিকে খনিতে কর্মরত এক শ্রমিক জানান, উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়ে তিনি নিজেই দুই শতাধিক মরদেহ উদ্ধার করতে সহায়তা করেছেন। তার দাবি, প্রকৃত মৃতের সংখ্যা প্রকাশ করা হচ্ছে না।
রুবায়া অঞ্চলটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কোলটান উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এখান থেকে বিশ্বের প্রায় ১৫ শতাংশ কোলটান সরবরাহ হয়। কোলটান থেকে তৈরি ট্যান্টালাম আধুনিক প্রযুক্তি শিল্পের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাতু। মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, মহাকাশযানের যন্ত্রাংশ এবং গ্যাস টারবাইনের মতো বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্যে এটি ব্যবহৃত হয়।
বিজ্ঞাপন
এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারির শেষদিকে একই অঞ্চলে আরেকটি খনি ধসের ঘটনায় দুই শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। সে সময় কঙ্গো সরকার অভিযোগ করেছিল, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া অবৈধভাবে খনন কার্যক্রম পরিচালনার কারণেই এমন দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, খনি এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিয়ন্ত্রিত খনন কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা সবসময়ই থেকে যাচ্ছে।
সূত্র: আল-জাজিরা








