Logo

ইরান সংকটে পাশে নেই রাশিয়া-চীন, নেপথ্যে কি?

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৫ মার্চ, ২০২৬, ১৭:০০
ইরান সংকটে পাশে নেই রাশিয়া-চীন, নেপথ্যে কি?
ছবি: সংগৃহীত

ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান ত্রিমুখী সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্যে নিহতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে তেহরানের ঘনিষ্ঠ দুই কৌশলগত ও কূটনৈতিক অংশীদার রাশিয়া ও চীন প্রকাশ্যে যুদ্ধের তীব্র সমালোচনা করলেও সামরিকভাবে ইরানের পাশে সরাসরি দাঁড়াতে এখনো অনীহা দেখাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুললেও শক্তিধর এই দুই দেশের এমন দূরত্ব বজায় রাখার কৌশল নিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নানা বিশ্লেষণ ও আলোচনা।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই অবস্থানের পেছনের নানামুখী কারণ তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কূটনৈতিক ভাষ্যে ইরানের পক্ষে অবস্থান নিলেও বাস্তবে রাশিয়া ও চীন পরিস্থিতিকে অনেক বেশি সতর্কভাবে মোকাবিলা করছে।

বিজ্ঞাপন

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি এ ঘটনাকে মানবিক ও নৈতিকতার সব নিয়মের নির্মম লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। একই সময়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই তার ইসরায়েলি সমকক্ষ গিডন সারকে জানান, শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে কোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। রাশিয়া ও চীন একযোগে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক আহ্বানের দাবি তুললেও সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়ে কোনো স্পষ্ট সংকেত দেয়নি।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে একটি ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি সই হয়। এতে প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা সমন্বয়ের কথা থাকলেও ‘পারস্পরিক প্রতিরক্ষা’র (মিউচ্যুয়াল ডিফেন্স) কোনো শর্ত ছিল না।

রুশ থিঙ্কট্যাংক ভালদাই ডিসকাশন ক্লাবের সদস্য আন্দ্রে কর্টুনভ জানান, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে রাশিয়ার যে প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে, ইরানের সঙ্গে তেমনটি নেই। উত্তর কোরিয়া আক্রান্ত হলে রাশিয়া সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিতে বাধ্য, কিন্তু ইরানের ক্ষেত্রে চুক্তিতে কেবল ‘শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার’ কথা বলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া ইউক্রেন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মধ্যস্থতার পথ খোলা রাখতে রাশিয়া এই মুহূর্তে সরাসরি ইরানে সেনা বা অস্ত্র পাঠাতে আগ্রহী নয়। এতে তেহরানের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা তৈরি হয়েছে। ২০২১ সালে চীনের সঙ্গে ইরানের ২৫ বছর মেয়াদী একটি বড় সহযোগিতা চুক্তি হয়। তবে চীনের তসিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জোডি ওয়েন বলেন, চীন বরাবরই অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতিতে অটল। বেইজিং হয়তো তেহরানকে অস্ত্র দেবে না, তবে কূটনৈতিক মধ্যস্থতায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

পরিসংখ্যান বলছে, ইরানের বার্ষিক অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৮৭ দশমিক ২ শতাংশ যায় চীনে। ফলে ইরানের জন্য চীন অর্থনৈতিকভাবে অপরিহার্য হলেও, দেশটির বিশাল বৈশ্বিক বাণিজ্যের তুলনায় ইরান খুবই ছোট অংশীদার। সিঙ্গাপুরের নানয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ডিলান লোহ মনে করেন, চীন মূলত মধ্যপ্রাচ্যে নিজের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা এবং আঞ্চলিক বিপর্যয় ঠেকাতেই বেশি মনোযোগী।

বিজ্ঞাপন

বিশ্লেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানের পর থেকেই রাশিয়া ও চীন বৈশ্বিক রাজনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে হিসাব-নিকাশ করছে। ফলে কূটনৈতিকভাবে ইরানের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিলেও বাস্তবে সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে তারা সতর্ক অবস্থান বজায় রাখছে। এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধক্ষেত্রে আপাতত ইরানকে একাই লড়াই চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD