Logo

হামলা বন্ধের জন্য যে শর্ত দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৭ মার্চ, ২০২৬, ১৪:৫০
হামলা বন্ধের জন্য যে শর্ত দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যদি মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলো থেকে আক্রমণ বন্ধ হয়, তাহলে ইরানও তার হামলা স্থগিত করবে। শনিবার টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে এই ঘোষণা দেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ভাষণে বলেন, “গত কয়েক দিনে যেসব প্রতিবেশী দেশে ইরান হামলা করেছে, তাদের কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। কিন্তু আমাদের কাছে আর কোনো বিকল্প নেই। ইরানের জনগণ কখনও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কাছে মাথা নত করবে না এবং স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, আত্মমর্যাদা ও জাতীয় স্বার্থের বিষয়ে কখনও আপস করবে না।”

“শত্রুরা চায় ইরানের জনগণ আত্মসমর্পণ করুক; কিন্তু তা কখনও ঘটবে না, বরং এই আকাঙ্ক্ষা নিয়ে শত্রুরা কবরে যাবে।”

বিজ্ঞাপন

“তবে ইরানের অস্থায়ী নিরাপত্তা পরিষদ এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে যদি ইরানে হামলা বন্ধ হয়, তাহলে ইরানও পাল্টা হামলা বন্ধ করবে।”

ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে। তবে ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো সমঝোতা ছাড়াই সংলাপ শেষ হয়।

তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও।

বিজ্ঞাপন

হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলোতে দফায় দফায় ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে ইরান। এতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ক্ষয়ক্ষতির শিকার হচ্ছে বলেও জানা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশের সঙ্গে ইরানের সরাসরি যুদ্ধ বাঁধেনি।

মার্কিন গোয়েন্দাদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে, এ যুদ্ধে ইরানকে গোয়েন্দা সহায়তা দিচ্ছে রাশিয়া। মধ্যপ্রাচ্যের কোথায় কোথায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি আছে, সেসব ঘাঁটির সেনাসংখ্যা, অস্ত্র, যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো বিভিন্ন গোয়েন্দা চ্যানেলে তেহরানকে জানাচ্ছে মস্কো।

বিজ্ঞাপন

২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথম দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। তার মৃত্যুর পর ইরানে ‘অস্থায়ী নেতৃত্ব পরিষদ’ গঠিত হয়েছে। এ পরিষদের প্রধান হিসেবে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান। অন্য দুই সদস্য হলেন বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসেন মোহসেনি-এজেই এবং প্রভাবশালী সংস্থা গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন জ্যেষ্ঠ সদস্য।

সূত্র : রয়টার্স, এএফপি

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD