এবার যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া হুঁশিয়ারি দিল চীন

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ত্রিমুখী সংঘাতের উত্তেজনা চলাকালীন বেইজিং ওয়াশিংটনকে সরাসরি কড়া বার্তা দিয়েছে। এবারের উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু ইরান নয়, বরং তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অস্ত্র বিক্রির সিদ্ধান্ত।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (১৩ মার্চ) এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই ‘এক চীন নীতি’ এবং দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত তিনটি যৌথ ঘোষণাপত্র মেনে চলতে হবে। তিনি অবিলম্বে তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের দাবি তুলেছেন।
মুখপাত্র আরও উল্লেখ করেন, চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং তাইওয়ান প্রণালিতে শান্তি রক্ষা করতে ওয়াশিংটনকে শুধু কথায় নয়, বাস্তব পদক্ষেপও নিতে হবে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, তাদের কৌশলগত রিজার্ভ থেকে ছাড় করা তেলের প্রথম অংশ চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ বাজারে পৌঁছাবে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৩ মার্চ) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে মার্কিন জ্বালানি বিভাগ। এর আগে সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসন ১৭২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিল, যার মধ্যে ৮৬ মিলিয়ন ব্যারেল ইতোমধ্যেই বিনিময়ের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
বিভাগের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই তেল সরবরাহের ফলে মার্কিন করদাতাদের ওপর কোনো অতিরিক্ত ব্যয় চাপবে না। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ আইইএ-এর ৩২টি সদস্য দেশের সম্মিলিত প্রচেষ্টার অংশ, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স অন্তর্ভুক্ত। এসব দেশ তাদের জরুরি মজুত থেকে মোট ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়বে, যা সংস্থার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় উদ্যোগ।
বিজ্ঞাপন
২০২২ সালে বাইডেন প্রশাসন রিজার্ভ ব্যবহার করায় দীর্ঘ কয়েক বছর তার সমালোচনা করেছিলেন ট্রাম্প। তবে বুধবার কেনটাকিতে এক সমাবেশে তিনি আইইএ-এর এই প্রচেষ্টার প্রশংসা করে বলেন, ‘আমেরিকা ও বিশ্বের ওপর আসা এই হুমকি মোকাবিলা করার পাশাপাশি এটি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনবে।’
ট্রাম্প আরও যোগ করেন, আমরা কাজ শেষ না করে মাঝপথে ফিরতে চাই না। আমাদের কাজ শেষ করতে হবে।
বিজ্ঞাপন








