মার্কিন প্রেসিডেন্টের সব অনুরোধ মানতে যুক্তরাজ্য বাধ্য নয়: ব্রিটিশ মন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সব অনুরোধ পূরণ করতে যুক্তরাজ্য বাধ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন ব্রিটিশ সরকারের এক জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী। তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও প্রতিটি বিষয়ে একই অবস্থান নেওয়া লন্ডনের দায়িত্ব নয়।
বিজ্ঞাপন
ব্রিটিশ শ্রম ও পেনশনমন্ত্রী প্যাট ম্যাকফ্যাডেন জানান, ট্রাম্প ‘খুব লেনদেনভিত্তিক’ নেতৃত্ব অনুসরণ করেন। তার মতে, ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বা দাবিকে সেই প্রেক্ষাপটেই মূল্যায়ন করা উচিত।
স্কাই নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ম্যাকফ্যাডেন বলেন, ট্রাম্পের বক্তব্য তার অবস্থান স্পষ্ট করে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র–যুক্তরাজ্য সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং গভীর হলেও লন্ডনকে নিজস্ব নীতিগত অবস্থান বজায় রেখেই এগোতে হবে।
বিজ্ঞাপন
ইরানের পাল্টা হামলার পর কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়া হরমুজ প্রণালি সচল করতে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা না করলে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ ‘খুব খারাপ’ হতে পারে বলে ট্রাম্প সতর্ক করেছেন। এ বিষয়ে তিনি মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে সক্রিয় সহায়তা চান।
ট্রাম্প প্রণালি খুলতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানালেও যুক্তরাজ্য এখনো সে প্রস্তাবে সম্মতি দেয়নি। বরং লন্ডন ওই এলাকায় মাইন অপসারণে সক্ষম ড্রোন পাঠানোর পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে। ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের মতে, সরাসরি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
ম্যাকফ্যাডেন বলেন, বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে অগ্রসর হবে। তিনি জানান, কী ধরনের সরঞ্জাম পাঠানো হবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে যুক্তরাজ্য এই সংঘাতে সরাসরি প্রধান পক্ষ হতে চায় না।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: লেবাননে স্থল অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েল
ট্রাম্প একাধিকবার অভিযোগ করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অভিযানে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা যথেষ্ট নয়। চলতি মাসের শুরুতে তিনি ব্রিটিশ নেতৃত্বের সমালোচনা করে মন্তব্য করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে উইনস্টন চার্চিলের মতো দৃঢ় নেতৃত্বের অভাব রয়েছে।
অন্যদিকে ব্রিটিশ সরকারের অবস্থান হলো, তারা মূলত প্রতিরক্ষামূলক সহায়তা দিচ্ছে—বিশেষ করে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতে। সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনসম্মত এবং দেশের জনগণের মতামতের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান








