ইরান যুদ্ধ ঘিরে ‘ইতিহাসের ভয়াবহতম’ জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ধাক্কার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) প্রধান ফাতিহ বিরল সতর্ক করে বলেছেন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল ও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে অন্তত ছয় মাস বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে।
বিজ্ঞাপন
তিনি জানান, উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে পারছেন না নীতিনির্ধারকরা। তার মতে, ইরানকে ঘিরে চলমান এই সংঘাত বর্তমান সময়ের সবচেয়ে গুরুতর জ্বালানি সংকটে রূপ নিয়েছে।
২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ-পরবর্তী জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা বিরল এবারকার পরিস্থিতিকে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সত্তরের দশকের জ্বালানি সংকটের তুলনায় বর্তমানে বেশি পরিমাণ তেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এমনকি ইউরোপে রাশিয়ার গ্যাস সরবরাহ বন্ধের সময়ের চেয়েও এখন দ্বিগুণ গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার বাইরে রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বিশ্ববাজার ও নীতিনির্ধারকরা মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকটের গভীরতা পুরোপুরি বুঝতে পারছেন না। বর্তমানে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই অঞ্চলে আটকে আছে।
জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় সার, প্লাস্টিক, পেট্রোকেমিক্যাল, পোশাক শিল্পসহ সালফার ও হিলিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের বৈশ্বিক সরবরাহও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইইএ প্রধান।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তেলের দাম আরও বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলার পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এ সময় সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্র ও রাস লাফান কমপ্লেক্সসহ গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সংকট মোকাবিলায় আইইএ ইতোমধ্যে বৈশ্বিক মজুত থেকে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে, যা সংস্থাটির মোট মজুতের প্রায় ২০ শতাংশ। তবে বিরল স্পষ্ট করে বলেন, শুধু মজুত তেল দিয়ে এই ঘাটতি পূরণ সম্ভব নয়। টেকসই সমাধানের জন্য হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালু করা জরুরি।
বিজ্ঞাপন
ইউরোপকে আবারও রাশিয়ার গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অতীতের ভুল পুনরাবৃত্তি করা উচিত নয়।
বর্তমান সংকট বিশ্বব্যাপী জ্বালানি নীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলেও মত দেন তিনি। এতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার বাড়বে, বৈদ্যুতিক যানবাহনের প্রসার ঘটবে। তবে স্বল্পমেয়াদে কয়লার ব্যবহারও বাড়তে পারে।
সূত্র: ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস








