Logo

বর্তমান জ্বালানি সংকট সত্তরের দশকের চেয়েও ভয়াবহ: আইইএ প্রধান

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৩ মার্চ, ২০২৬, ১৫:০২
বর্তমান জ্বালানি সংকট সত্তরের দশকের চেয়েও ভয়াবহ: আইইএ প্রধান
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ব বর্তমানে যে জ্বালানি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা ১৯৭০-এর দশকের দুটি বড় তেল সংকট এবং ২০২২ সালের ইউক্রেন যুদ্ধ-পরবর্তী জ্বালানি সংকটের সম্মিলিত প্রভাবকেও ছাড়িয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)-এর নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরল।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২৩ মার্চ) অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি ১৯৭৩ ও ১৯৭৯ সালের তেল সংকট এবং ইউক্রেন যুদ্ধকালীন গ্যাস সংকটের তুলনায় আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। তার ভাষায়, বর্তমান সংকট কার্যত দুটি তেল সংকট এবং একটি গ্যাস সংকটের এক জটিল সংমিশ্রণ।

আইইএ প্রধান জানান, হরমুজ প্রণালির কার্যকারিতা বিঘ্নিত হওয়া এবং বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনায় হামলার কারণে বিশ্ববাজারে দৈনিক তেলের সরবরাহ প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ ব্যারেল কমে গেছে, যা ১৯৭০-এর দশকের সংকটের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। একই সঙ্গে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ প্রায় ১৪০ বিলিয়ন ঘনমিটার হ্রাস পেয়েছে, যা ইউক্রেন যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

বিজ্ঞাপন

ফাতিহ বিরল আরও জানান, নয়টি দেশের অন্তত ৪০টি জ্বালানি স্থাপনা এই সংঘাতের কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে।

সংকট মোকাবিলায় আইইএ ইতোমধ্যে জরুরি মজুত থেকে প্রায় ৪০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের জন্য কিছু পরামর্শও দিয়েছে সংস্থাটি—এর মধ্যে রয়েছে রিমোট ওয়ার্কিং বাড়ানো, কার-পুলিং ব্যবস্থার প্রসার এবং মহাসড়কে যানবাহনের গতি সীমিত করা।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, এই সংকট থেকে উত্তরণের মূল চাবিকাঠি হলো হরমুজ প্রণালি পুনরায় স্বাভাবিকভাবে চালু করা, কারণ বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।

সূত্র: আল-জাজিরা

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD