Logo

এক রাত না যেতেই আবারও ঊর্ধ্বমুখী তেলের দাম

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৪ মার্চ, ২০২৬, ১৩:৫৭
এক রাত না যেতেই আবারও ঊর্ধ্বমুখী তেলের দাম
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বাড়তে শুরু করেছে জ্বালানি তেলের দাম। মঙ্গলবার ব্রেন্ট ক্রুড ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই)—দুই সূচকেই প্রায় ৪ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধি দেখা গেছে।

বিজ্ঞাপন

গ্রিনিচ মান সময় অনুযায়ী ভোর ৪টার দিকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪ ডলার বেড়ে ১০৩ দশমিক ৯৪ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে ডব্লিউটিআই তেলের দাম ৩ দশমিক ৪৯ ডলার বাড়িয়ে দাঁড়ায় ৯১ দশমিক ৬২ ডলারে।

এর আগে সোমবার তেলের দামে বড় পতন দেখা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করার ঘোষণা দিলে এবং তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় ‘গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি’ হয়েছে বলে দাবি করলে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।

বিজ্ঞাপন

তবে ওই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা হয়নি এবং এ ধরনের বক্তব্য বাজারকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে এবং ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘পুরনো মনস্তাত্ত্বিক কৌশল’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত থাকলেও হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। বিশ্বে সরবরাহকৃত মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। চলমান সংঘাতের কারণে এই পথ দিয়ে জ্বালানি পরিবহন মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে, যদিও সোমবার ভারতগামী দুটি তেলবাহী জাহাজ প্রণালী অতিক্রম করেছে।

বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ম্যাককোয়ারি গ্রুপের মতে, পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও তেলের দাম ৮৫ থেকে ৯০ ডলারের নিচে নামার সম্ভাবনা কম। বরং পরিস্থিতির অবনতি হলে দাম আবার ১১০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। এমনকি এপ্রিলের শেষ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী অচল থাকলে ব্রেন্টের দাম ১৫০ ডলারেও যেতে পারে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে জ্বালানি সরবরাহ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে রাশিয়া ও ইরানের সমুদ্রভিত্তিক তেলের ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল জানিয়েছেন, প্রয়োজনে কৌশলগত মজুত থেকে অতিরিক্ত তেল ছাড়ার বিষয়ে এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে।

বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, অন্তত এপ্রিল পর্যন্ত তেলের বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে, যা বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির ওপরও চাপ সৃষ্টি করবে। হিউস্টনে অনুষ্ঠিত এক জ্বালানি সম্মেলনেও খাত সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তারা সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

বিজ্ঞাপন

সূত্র: রয়টার্স

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD