ইসরায়েলকে সহায়তার প্রস্তাবে ইউক্রেনকে কড়া হুঁশিয়ারি ইরানের

ইসরায়েলকে সহায়তার প্রস্তাব দেওয়াকে কেন্দ্র করে ইউক্রেনের প্রতি কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান। চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কিয়েভের এই পদক্ষেপ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও সংকটময় করে তুলেছে।
বিজ্ঞাপন
ইরানের পার্লামেন্ট সদস্য ইব্রাহিম আজিজি বলেছেন, ইসরায়েলকে সহায়তার প্রস্তাব দেওয়ার ফলে ইউক্রেন এখন ইরানের জন্য বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। তার এই মন্তব্যে সম্ভাব্য উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
একসময় ইরান ও ইউক্রেনের মধ্যে সীমিত বাণিজ্যভিত্তিক সম্পর্ক থাকলেও সময়ের সঙ্গে তা দুর্বল হয়ে পড়ে। ২০১৪ সালের পর ইউক্রেনের পশ্চিমামুখী নীতির কারণে তেহরানের আগ্রহ কমতে শুরু করে এবং ধীরে ধীরে দেশটিকে পশ্চিমা জোটের অংশ হিসেবে দেখতে শুরু করে ইরান।
বিজ্ঞাপন
২০২০ সালে ভুলবশত ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রে ইউক্রেনের একটি যাত্রীবাহী বিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় দুই দেশের সম্পর্কে বড় ধরনের টানাপোড়েন তৈরি হয়। এরপর ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হলে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে নিরপেক্ষ অবস্থান নেয়। তবে ন্যাটোর সম্প্রসারণ নিয়ে অবস্থান দেওয়ায় কিয়েভ ইরানকে মস্কোপন্থী হিসেবে বিবেচনা করে।
এর পাশাপাশি রাশিয়াকে ইরানি শাহেদ ড্রোন সরবরাহের অভিযোগও দুই দেশের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তোলে। ২০২৩ সালে গাজা ইস্যুতে ইউক্রেনের ইসরায়েলপন্থী অবস্থান তেহরানের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ায়। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সমর্থন এবং পশ্চিমা নীতি অনুসরণের কারণে ইউক্রেনকে শত্রু হিসেবে দেখা শুরু করে ইরান।
বিজ্ঞাপন
সাম্প্রতিক বক্তব্যে ইব্রাহিম আজিজি ইউক্রেনকে সম্ভাব্য সামরিক লক্ষ্য হিসেবে ইঙ্গিত দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে এবং সামরিক ও কৌশলগত প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।








