Logo

ইরানে শীর্ষদের মৃত্যু: কে বা কারা সামলাচ্ছেন ক্ষমতা ও যুদ্ধ?

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৪ মার্চ, ২০২৬, ২১:৪৯
ইরানে শীর্ষদের মৃত্যু: কে বা কারা সামলাচ্ছেন ক্ষমতা ও যুদ্ধ?
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় বড় ধাক্কা এসেছে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডার নিহত হওয়ার পরও ইরানের শাসনব্যবস্থা যুদ্ধ পরিচালনা এবং কৌশল নির্ধারণে সক্ষমতা ধরে রেখেছে।

বিজ্ঞাপন

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর গঠিত ইরানের রাজনৈতিক কাঠামো জটিলভাবে সংগঠিত। দেশ পরিচালনায় এটি গুটিকয়েক ব্যক্তির ওপর নির্ভর না করে ধর্মনির্ভর শাসন, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ও সামরিক বাহিনীর সমন্বয়ে কাজ করে। শীর্ষ কমান্ডারদের মৃত্যু সত্ত্বেও এই কাঠামো কার্যকরভাবে ক্ষমতা বজায় রাখছে।

সর্বোচ্চ নেতা ও উত্তরাধিকার

হামলার শুরুতে ইরানের প্রবীণ সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। ১৯৮৯ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা খামেনি ছিলেন দেশের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী। খামেনির মৃত্যুতে তার ছেলে মোজতবা খামেনি নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন। যদিও তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব পেয়েছেন, তবে বাবার মতো স্বয়ংক্রিয় কর্তৃত্ব এখনো অর্জন করেননি। মোজতবা হামলায় আহত হয়ে “আহত বীর” হিসেবে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে পরিচিত হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

আইআরজিসির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) ক্ষমতা বাড়ছে। শীর্ষ কমান্ডারদের মৃত্যু সত্ত্বেও আইআরজিসির অভিজ্ঞ কর্মকর্তা ও বিকল্প নেতৃত্বের পরিকল্পনা কাজ করছে। প্রতিটি ইউনিট স্বাধীনভাবে এবং পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছে। ১৯৮০-৮৮ সালের ইরাক যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যে প্রক্সি যুদ্ধ পরিচালনার অভিজ্ঞতা বর্তমান কৌশল পরিচালনায় সহায়ক।

বিজ্ঞাপন

রাজনৈতিক নেতৃত্বের কার্যক্রম

ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ধর্মীয় শাসক ও নির্বাচিত রাষ্ট্রপ্রধান এবং পার্লামেন্টের সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। খামেনির উপদেষ্টা আলি লারিজানির মৃত্যু শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য বড় ধাক্কা। এখন নতুন অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা ক্ষমতার কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্ব গ্রহণ করছেন, কিন্তু অনেকেই কট্টরপন্থী।

বর্তমানে দায়িত্বে থাকা শীর্ষ নেতৃত্ব

বিজ্ঞাপন

• আহমদ ওয়াহিদি (আইআরজিসি প্রধান) : দু’জন পূর্বসূরি নিহত হওয়ার পর আইআরজিসির বর্তমান প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন তিনি। তিনি আইআরজিসির অভিজাত শাখার কুদস ফোর্সের প্রধান ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

• ইসমাইল কানি (কুদস ফোর্স প্রধান) : ২০২০ সালে কাসেম সোলেইমানি নিহত হওয়ার পর থেকে তিনি এই ইউনিটের প্রধান। অত্যন্ত রহস্যময় এই ব্যক্তি আঞ্চলিক প্রক্সি ও মিত্রদের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক বজায় রাখেন।

• আলিরেজা তাংসিরি (আইআরজিসি নৌ-প্রধান) : ২০১৮ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করছেন। হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার ক্ষেত্রে তিনি বড় ভূমিকা পালন করেছেন।

বিজ্ঞাপন

• মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ (স্পিকার) : সাবেক আইআরজিসি কমান্ডার ও তেহরানের মেয়র গালিবফ বর্তমানে জীবিতদের মধ্যে অন্যতম শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নেপথ্যে আলোচনার ক্ষেত্রে তার নাম শোনা যাচ্ছে।

• আয়াতুল্লাহ গোলাম হোসেন মোহসেনি-এজেই (বিচার বিভাগীয় প্রধান) : ২০০৯ সালের বিক্ষোভ দমনে ভূমিকার জন্য আলোচিত সাবেক এই গোয়েন্দা প্রধান একজন কট্টরপন্থী হিসেবে পরিচিত।

• মাসুদ পেজেশকিয়ান (প্রেসিডেন্ট) : ইরানের প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা আগের চেয়ে অনেক কমলেও সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হওয়ায় তার গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান রয়েছে। তবে উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে ইরানি হামলার জন্য ক্ষমা চেয়ে সম্প্রতি তিনি গার্ড বাহিনীর রোষানলে পড়েন এবং বক্তব্য আংশিক প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন।

বিজ্ঞাপন

• সাঈদ জলিলি (সাবেক নিরাপত্তা প্রধান) : কট্টরপন্থী এই নেতা সাবেক পরমাণু আলোচক। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন।

• আয়াতুল্লাহ আলিরেজা আরাফি (গার্ডিয়ান কাউন্সিল সদস্য) : খামেনির মৃত্যুর পর গঠিত তিন সদস্যের অন্তর্বর্তীকালীন কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। তিনি অত্যন্ত বিশ্বস্ত একজন ধর্মীয় নেতা হিসেবে পরিচিত।

বিজ্ঞাপন

• আব্বাস আরাঘচি (পররাষ্ট্রমন্ত্রী) : এই অভিজ্ঞ কূটনীতিক দীর্ঘ সময় ধরে পশ্চিমাদের পাশাপাশি রাশিয়া, চীন ও আরব দেশগুলোর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দরকষাকষি চালিয়ে আসছেন।

শীর্ষ নেতাদের মৃত্যু সত্ত্বেও ইরানের জটিল ক্ষমতার কাঠামো এবং আইআরজিসির প্রস্তুতিশীল নেতৃত্ব দেশের শাসন ও সামরিক কার্যক্রমকে চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই অভ্যন্তরীণ কাঠামো ছাড়া এত দ্রুত পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হতো না।

সূত্র: রয়টার্স

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD