হরমুজ প্রণালিতে সংকটে তেল উত্তোলন কমাল কুয়েত

হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় দৈনিক জ্বালানি তেল উত্তোলন কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশ কুয়েত। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (কেপিসি)।
বিজ্ঞাপন
বিবৃতিতে বলা হয়, কৌশলগত এই জলপথে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় সাময়িকভাবে তেল উৎপাদন হ্রাস করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে উৎপাদন আবার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
তবে নতুন সিদ্ধান্তে দৈনিক কত ব্যারেল উৎপাদন কমানো হয়েছে, তা স্পষ্ট করা হয়নি। সরকারি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই উৎপাদন কমতে শুরু করে। ১০ মার্চ কুয়েত প্রায় ৫ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উত্তোলন করে, যেখানে স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক গড় উৎপাদন ৩০ লাখ ব্যারেলের বেশি।
বিজ্ঞাপন
উল্লেখ্য, আরব সাগর ও পারস্য উপসাগরকে যুক্ত করা হরমুজ প্রণালী বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট। বৈশ্বিক তেল ও তরল গ্যাস পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশই এই পথ দিয়ে চলাচল করে।
এই প্রণালীকে ‘বিশ্ব জ্বালানির প্রবেশদ্বার’ হিসেবেও বিবেচনা করা হয়, কারণ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো প্রধানত এই পথ ব্যবহার করেই তেল রপ্তানি করে।
সাম্প্রতিক সময়ে ওই অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে সতর্ক করা হচ্ছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। কয়েকটি জাহাজে হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার সদস্য দেশগুলোর কাছে চিঠি দিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এতে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের সমর্থনকারী দেশগুলোর জাহাজকে ‘শত্রুভাবাপন্ন’ হিসেবে বিবেচনা করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ পরিস্থিতি কুয়েতের জন্যও উদ্বেগজনক বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ দেশটিতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।








