ছেলে না হওয়ায় জমজ কন্যাশিশুকে হত্যা : বাবা-পরিবারসহ গ্রেফতার

ভারতের তেলেঙ্গানার জুবিলি নগর গ্রামে চার বছরের জমজ দুই কন্যাশিশু হত্যার ঘটনায় বাবা, দাদা, চাচা ও দাদি গ্রেফতার হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার মূল কারণ ছিল পরিবারের ‘ছেলে সন্তানের’ আকাঙ্ক্ষা।
বিজ্ঞাপন
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শিশুগুলোর বাবা শ্রীশৈলম (২৮), তার বাবা অশোক, মা লাবণ্য এবং ছোট ভাই রাকেশ—এই চারজন মিলিতভাবে পরিকল্পিতভাবে হত্যার ঘটনা ঘটান। তাদের ধারণা ছিল, মেয়েরা ভবিষ্যতে পরিবারের জন্য ‘বোঝা’ হয়ে দাঁড়াবে।
করিমনগর রুরাল সার্কেল পরিদর্শক এ নীরঞ্জন রেড্ডি বলেন, ‘শ্রীশৈলম কন্যাসন্তান চাইতেন না। এমনকি স্ত্রী গর্ভবতী থাকাকালে জমজ মেয়ে সন্তান হওয়ার পর গর্ভপাতের জন্য চাপ দিয়েছিলেন।’
বিজ্ঞাপন
পুলিশের বরাত অনুযায়ী, ২০২২ সালে জমজ কন্যাশিশু জন্ম হলেও শ্রীশৈলম সন্তানদের মেনে নেননি। পরিবারের অন্য সদস্যরাও কন্যাশিশুদের জন্ম মেনে নিতে পারেননি এবং বারবার গর্ভপাতের জন্য চাপ দেন। পরে স্ত্রীকে বাবার বাড়িতে পাঠানো হয়।
ঘটনার চারদিন আগে থেকেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। ৩ এপ্রিল শ্রীশৈলম স্ত্রীকে বাড়িতে রেখে দুই শিশুকে পারিবারিক কৃষিজমিতে নিয়ে যান। সেখানে কোনো কৃষক না থাকার সময় সুযোগ বুঝে প্রথমে একটি শিশুকে কুয়োয় ফেলে দেওয়া হয়। অপর শিশুকে নিজেই কুয়োয় চুবিয়ে হত্যা করেন।
হত্যার পর শ্রীশৈলম ঘটনাটি দুর্ঘটনা দেখানোর জন্য ভুয়া নাটক সাজান। স্থানীয়রা সন্দেহ করলে তিনি পালিয়ে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের জানান ‘পরিকল্পনা সফল হয়েছে’।
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী তল্লাশিতে চার অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। বিশেষজ্ঞ সাঁতারুদের সহায়তায় কুয়ো থেকে দ্বিতীয় শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, ‘এটি আমাদের তদন্ত করা সবচেয়ে ভয়াবহ ও অমানবিক ঘটনার মধ্যে একটি। কেবল কন্যাশিশু হওয়ার কারণে নিরপরাধ শিশুদের হত্যা করা হয়েছে। জড়িত সকলের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।’








